প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের বরাদ্দকৃত উপ-খাতের আওতায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের আশ্রয়ন ২প্রকল্পের যার জমি আছে ঘর নেই তার নিজ জমিতে গৃহনির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থ লুপাটের অভিযোগ উঠেছে। কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ৬টি ইউনিয়নের গৃহনির্মাণের কাজে এ অভিযোগ তুলা হয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, গৃহ-নির্মানের জন্য সঠিক সুবিধাভোগীদের নামের তালিকা না করে স্বজনপ্রীতি ও প্রশাসনের যোগসাজসে উৎকোচের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যক্তিদের নামের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। জনপ্রতি সুবিধাভোগীদের ১৬ ফিট একটি লম্বা ঘর দেওয়ার কথা বলে অনেকের কাছ থেকে ২০ থেকে ৩০হাজার করে টাকা ঘুষ নিয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বরা। গৃহনির্মাণের জন্য উন্নত মানের টেকসই ৩২০ এম এম ঢেউটিন দেওয়ার পরিবর্তে দিয়েছে কম দামের ঢেউটিন।

প্লেনসিড বা ইষ্টীলের জালানালা না দিয়ে ২৪০এমএম ঢেউটিন দিয়ে জানালা দরজা তৈরী করে দিয়েছে। ঘরের মেঝে ঢালাই কাজ নি¤œমানের ইট, খোয়া, সিমেন্ট, বালি ব্যবহার করা হয়েছে। মেঝে পাকা করার পর পরেই অনেক ঘরের ভিতরে ফাটল ও খসে পড়ছে। ঘরের বারান্দা সিমেন্টের যে খুটি ব্যবহার করা হয়েছে তা ভিতরে একটি ২সুটের ১টি রট ব্যবহার করা হয়েছে।

ঘর নির্মানের কাজে জামকাঠ ব্যবহার করা নিয়ম থাকলেও তা না দিয়ে বাজারের কম দামি সাদা ইউক্লিটাস গাছের কাঠ দেওয়া হয়েছে। কাঠের ধরণা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও দেওযা হয়েছে বাঁশ ধরণা। অনুমোদিত সুবিধাভোগীদের তালিকার সাথে বরাদ্দকৃত ঘরের মালিকদের নামের তালিকার সাথে কোন মিল পাওয়া যায়নি। ঘর দেওয়ার কথা ১২হাত ঘর দিয়েছে ১০থেকে ১১হাত করে। ফলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ভেস্তে যেতে বসেছে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারা।

খনজনমারা গ্রামের ফরিজল হক বলেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য আজিবর রহমান আমারে কয় খামার পাড়া থাইকা কদভানু ঘর বাবদ ২০হাজার টাকা নিছি, দক্ষিণ খনজনমার ফালানী টাকা না দেওয়া তার বরাদ্দকৃত ঘর কাইটা চেয়ারম্যান চরবন্দবেড় গ্রামের মাইদুলকে দিছে, আমি টাকা না দিলে আমার ঘর দিবো না তাই মেম্বরকে আমি ১০হাজার টাকা দিছি।

দক্ষিণ খনজনমার ফালানী বলেন চেয়ারম্যানরে টাকা দেই নাই তাই আমার নামের ঘর কাইটা মানসেরে(অন্যকে) দিচ্ছে, ৩০হাজার ট্যাহা আমি পামু কনে, আমরা গরিব মানুষ আমাগো টাকা নাই তাই ঘর দেয় নাই।

পূর্ব খেদাইমারী গ্রামের আকাবর আলী বলেন চেয়ারম্যান মেম্বরা আমার কাছে টাকা চাইছাল টাকা দেইনাই, তাই আমার নামের ঘর কাইটা অন ্যমানসেরে দিছে।

সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা গৃহনির্মাণ কাজে অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থের বিনিময় সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরীর অভিযোগ অস্বীকার করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে ৬টি ইউনিয়নের আশ্রয়ন ২প্রকল্পের গৃহ নিমার্ণকৃত গৃহ দেখবো। গৃন নির্র্র্মাণ কাজে কোন প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী জানান, গৃহ নিমার্ণ প্রকল্পের কয়েটি ঘর আমি সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি, ঘর নিমার্ণে ঢেউনিট, কাঠ, ইট,সিমেন্ট, খুটিসহ নিমার্ণ সামগ্রী নি¤œমানের, একটি ঘর নিমার্ণে সর্বোচ্চ খরচ হয়েছে ৪০থেকে ৫০হাজার টাকা, সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরীতে স্বজনপ্রীতি অনিয়ম দূর্নীতি ও অর্থের বিনিময় অভিযোগ রয়েছে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, রৌমারী উপজেলায় মোট ৬০টি ঘর নিমার্ণে বরাদ্দ দেওয়া হয় ৬০ লাখ টাকা। তার মধ্যে দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নে ১০টি, শৌলমারী ইউনিয়নে ১০টি, বন্দবেড় ইউনিয়নে ১০টি, রৌমারী ইউনিয়নে ১০টি, যাদুরচর ইউনিয়নে ১০টি ও চরশৌলমারী ইউনিয়নে ১০টি। এই নির্মাণকৃত ঘরের ব্যয় দেখানো হয়েছে মোট ৬০ লাখ টাকা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য