শস্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত দিনাজপুর। সুগন্ধি আর কাঠারিভোগ ধান উৎপাদনের উর্বর ভূমি দিনাজপুর। কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার ফলে ধানের ও উন্নতমানের ফল বাগানের পাশে আইন অমান্য করে ইটভাটা তৈরি করে ইট পোড়া আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এলাকার প্রভাবশালীরা ঝুঁকে পড়েছে অবৈধ ইট ভাঁটা নির্মানে। কৃষি অধিদপ্তরের প্রত্যয়ন ছাড়াই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ইটভাটা। জ¦ালানি হিসেবে কয়লা পোড়ার কথা থাকলেও ইটভাটা মালিকেরা প্রকাশ্যে কাঠ পুড়ে নির্মান করছে ইট।

এলাকার কৃষকেরা অভিযোগ করে জানান, ইটভাটা মালিকেরা কৃষি জমিতে একের পর এক গড়ে তুলছে ইটভাটা যার কারণে দিন দিন ক্রমশ কমে যাচ্ছে কৃষি জমি।

ফল বাগান মালিক মো: রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, যে বাগান থেকে প্রতিবছর হাড়িভাঙ্গা, আ¤্রপালিসহ উন্নত প্রজাতির আম লিচু উৎপাদন হয়ে থাকে সে বাগান সংলগ্ন এলাকায় কিভাবে নির্মান হয় ইটভাটা।

এদিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার ২নং বিনোদনগর ইউনিয়নের মাগুরা গ্রামরে শতাধিক কৃষক জানান, গ্রাম ও কৃষি জমিতে ইটভাটা নির্মান করার সময় তারা স্থানীয় প্রশাসনকে লিখিত ভাবে অভিযোগ দিলেও ইটাভাটা নির্মান বন্ধ তো দুরের কথা অভিযোগ দেওয়ার কারণেই দ্রুত নির্মান সম্পূর্ন হয়েছে।

এদিকে গত ২৫/০৭/২০১৭ ইং উপজেলার বৈধ ইটাভাটা মালিকেরা দিনাজপুর জেলা প্রশাসক বরাবরে অবৈধ ইটভাটা তদন্তের জন্য আবেদন করে। অভিযোগে বলা হয়েছে নবাবগঞ্জ উপজেলার আধুনিক প্রযুক্তির জিগগ্যাগ (হাওয়া) ইটভাটা মালিকেরা জানান, তারা ৫-৬ বছর যাবৎ সরকার বাহাদুরকে ভ্যাট ট্যাক্স এবং প্রয়োজনীয় খাজনাদি পরিশোধের জন্য ইটভাটা পরিচালনা করে আসছে। চলতি মৌসুমে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে সরকারি বন এলকার সংলগ্ন সরকারের নিয়ম নীতি ভঙ্গ করে অবস্থান গত ছাড়পত্র ছাড়া যেখানে সেখানে ইটভাটা নির্মান করেছে। ইটভাটাগুলো খড়ি দিয়ে ইট পোড়ানো শুরু করেছে। অভিযুক্ত ভাটাগুলো হলো আরএমএ, ডব্লিউআরআর, এমএমবি, এমএসবি, এওএল, ডব্লিউএসআর, এফপিডি, আরএমএ এছাড়াও পতিœচান, রামভদ্রপুর ও চকদলু এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ইটভাটা।

নবাবগঞ্জ প্রযুক্তিভিত্তিক ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারন সম্পদাক মো. হাফিজুর রহমান জানান, কাঠ পোড়া ইট ভাঁটা গুলো সরকারকে ফাঁকি দিয়ে ইট প্রস্তুত করে ব্যবসা শুরু করছে। ওই সমিতির সদস্য আনোয়ার হোসেন, আজিজুল হক জানান, আমরা সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে ইট পুড়ছি। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স কর ও লাইসেন্স ছাড়াই ইট পুড়ছে। জিগজ্যাগ ভাঁটা মালিকেরা জানান, গত বছরের প্রতি টন কয়লা ৭ হাজার টাকায় কিনতে হয়েছিল। বর্তমানে তা দিগুণে পরিনত হয়ে ১৭ হাজার টাকায় প্রতি টন কয়লা কিনতে হচ্ছে। উচ্চ মূল্যে কয়লা পুড়ে ইট প্রস্তুত করে বিক্রি করতে গেলে ইটের দামও বেড়ে যাবে।

এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো: আরাফাত হোসেনের সাথে যোগাযেগা করা হলে তিনি জানান, চলতি বছরে অবৈধভাবে নির্মিত দুটি ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায় করেছেন। এলাকার কৃষকদের দাবি কৃষি ফসলি ধানী জমি ও ফলের বাগান ধ্বংস করে যারা ইট ভাঁটা নির্মান করছে তাদের বিষয়ে এখনি ব্যবস্থা না নিলে কৃষি ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়ে যাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য