দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হাড্ডাহাড্ডি লড়াই ও ভোট গণনায় জটিলতার কারণে হন্ডুরাসের নির্বাচনী সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে।

ভোটের পর তিনদিন পেরিয়ে গেলেও গণনা শেষ করতে পারেনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল; এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলও উদ্বিগ্ন।

৮২ দশমিক ৮৯ শতাংশ ভোট গণনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বর্তমান প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ তার প্রতিদ্বন্দ্বী সালভাদর নাসরাল্লার চেয়ে তিন হাজার ভোটে এগিয়ে আছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

ভোটের আগে জনমত জরিপে হার্নান্দেজের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে ছিলেন নাসরাল্লা।

গণনায় বর্তমান প্রেসিডেন্টের সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকার খবর শুনে বিরোধী জোটের প্রার্থী নাসরাল্লা অভিযোগ করে বলেছেন, ট্রাইব্যুনাল ও ক্ষমতাসীনরা তার বিজয় ‘চুরি করেছে’।

গণনার এখনো এক পঞ্চমাংশ বাকি, কে বিজয়ী হচ্ছে তা ‘স্পষ্ট’ না হওয়ায় হন্ডুরাসের রাজনৈতিক শূন্যতায় উদ্বেগের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভোট গণনা দ্রুত শেষ করতে হন্ডুরাসের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

মধ্য আমেরিকায় ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠ এ মিত্র দেশটি এমনিতেই চরম দারিদ্র্য ও মাদক বাণিজ্য নিয়ে গোষ্ঠী সংঘাতের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিশ্বের সবগুলো দেশের মধ্যে খুনের হারও সবচেয়ে বেশি হন্ডুরাসে।

বিতর্কিত ভোটের যাচাই বাছাই নিয়ে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া হবে- বুধবার অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটের (ওএএস)মধ্যস্থতায় দুই প্রার্থী এমন সমঝোতায় পৌঁছালে সংকট সমাধানে অগ্রগতির সম্ভাবনা দেখা দেয়।

হার্নান্দেজ গণনাকৃত ভোটের ৪২ দশমিক ২ শতাংশ পেয়েছেন এমনটা জানার পর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ওই অবস্থান থেকে সরে আসেন নাসরাল্লা। নির্বাচনী সংস্থার দেওয়া ফলও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।

জয় চুরি করে হার্নান্দেজ একতরফাভাবে নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেন বলেও আশঙ্কা তার।

“তারা আমাদেরকে বোকা পেয়েছে, এবং আমাদের জয় চুরি করতে চাইছে,” বলেন মধ্যপন্থি ও বামপন্থি দলগুলোর জোটের প্রার্থী নাসরাল্লা।

নাসরাল্লা গণনাকৃত ভোটের ৪২ দশমিক ১ শতাংশ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

“ওএএসের সঙ্গে যে সমঝোতায় আমি স্বাক্ষর করেছি তার কোনো বৈধতা নেই। এটা একটা ফাঁদ,” বলেন বিরোধী প্রার্থী। ‘ভোট রক্ষায়’সমর্থকদের রাস্তায় নেমে আসারও আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনে জয়ী হলে হার্নান্দেজের ন্যাশনাল পার্টি কংগ্রেসেরও কর্তৃত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গণনায় সামান্য এগিয়ে থাকার খবর পেয়ে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের উৎফুল্ল সমর্থকরা রাজধানী তেগুচিগাপালার দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করেছে বলে টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা গেছে।

অন্যদিকে নাসরাল্লার সমর্থকরা ভোটের ফল প্রত্যাখ্যান করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

“ন্যায়বিচার এবং জনগণের চাওয়ার প্রতিফলন দেখতেই আমি এখানে (রাস্তায়)। আমরা সালভাদর নাসরাল্লাকে বিজয়ী করেছি, কিন্তু হুয়ান অরলান্ডো হার্নান্দেজ সেই জয় চুরি করছে,” বলেন লাল পতাকা বহনকারী ২২ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী ডেভিড রামিরেজ।

রোববারের ভোটের পর সোমবার সকালের দিকেই অর্ধেক কেন্দ্রের গণনার ফল জানিয়ে দিয়েছিল নির্বাচনী সংস্থা। এরপর ৩৬ ঘণ্টাতেও আর কোনো ফল না ঘোষণায় আন্তর্জাতিক মহলও তীব্র সমালোচনা করে। বুধবার পরের দিকে ফের গণনা কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের প্রধান ডেভিড মাতামোরোস কম্পিউটার সমস্যায় হওয়া ‘বিচ্যুতির জন্য’ জাতির কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

“যে সমস্যা হয়েছে তার জন্য আমরা দুঃখিত, এটা হওয়ার কথা ছিল না। যত দ্রুত সম্ভব এর সমাধানের চেষ্টা করছি আমরা,” বলেন তিনি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ফল গণনার এই দেরি নির্বাচনী সংস্থার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবে এবং পরবর্তী প্রেসিডেন্টের বৈধতাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত হুন্ডুরাসের কর্তুপক্ষকে ভোটের ফল দ্রুত পর্যালোচনা ও প্রকাশের আহ্বান জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য