যত্রতত্র ময়লার স্তুপ ॥ রাতে ভুতুরে পরিবেশ ॥ বসে মাদকের আড্ডা ॥ ২৫ বছরেও উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি

মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস র্টামিনালের বেহাল দশা। উঁচু-নিচু ভাঙ্গা ইটের লাল মাটি আর এলোমেলো সাড়ি সাড়ি বাস। বড় বড় গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে কাঁদার সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও ময়লার স্তুপ। পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য নেই কোন ব্যবস্থা। দুর্গন্ধময় ভুতুরে পরিবেশ। সীমানা প্রাচীর না থাকায় যাত্রীদের নেই কোন নিরাপত্তা। এই হচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রীয় বাস র্টামিনালের বর্তমান চিত্র।

১৯৯৩ সালে দিনাজপুর পৌরসভার নিকট থেকে ইজারা নিয়ে ২ দশমিক ৪৪ একর জমির উপর এই বাস টার্মিনালটি গড়ে তোলা হয়। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছরেও এই টার্মিনালে উন্নয়নের কোন ছোঁয়া লাগেনি। সংস্কারের জন্য পৌর কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার লিখিতভাবে চিঠি দিয়েও কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চেয়ে বহুবার চিঠি পাঠানো হয়েছে। কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। অথচ বছরে প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী এই টার্মিনাল দিয়ে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে।

দিনাজপুর শহরের বালুবাড়ী এলাকার বাসিন্দা মো. মজিবুর রহমান একজন সরকারী চাকরীজীবী। প্রতিদিন দিনাজপুর থেকে বীরগঞ্জে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, এই টার্মিনালে কোন যাত্রী ছাউনী না থাকায় বসার কোন ব্যবস্থা নেই।

যাত্রীদের এখানে এসে দাড়িয়ে থাকতে হয়। অধিকাংশ বাস রাস্তায় দাড়িয়ে যাত্রী তোলে। ফলে রাস্তায় যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে অনেকেই দূর্ঘটনার শিকার হন। এছাড়া শ্রমিকরা যাত্রীদের ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করায় যাত্রীরা অস্বস্তি বোধ করেন। তার পর রয়েছে যত্রতত্র ময়লা-আর্বজনার স্তুপ। দুর্গন্ধময় পরিবেশ। ময়লার দুর্গন্ধে শ্বাস-প্রশ্বাস নেয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে।

শ্রমিক নেতা শেখ মো. বাদশা, মুন্নাসহ কয়েকজন শ্রমিক জানান, অসংখ্য সমস্যায় জর্জরিত এই র্টামিনাল। র্টামিনালের সীমানা প্রচীর নেই। বহিরাগতরা যখন তখন এসে বিভিন্ন অপকর্ম করে চলে যায় আর এতে বদনাম হয় মোটর শ্রমিকদের। সীমানা প্রাচীর না থাকায় বহিরাগতদের সাথে মিশে কিছু শ্রমিক রাতে মাদকের আড্ডাখানা বানিয়েছে। র্টামিনাল খানা-খন্দে ভরা। বাসগুলো খাল খন্দে পড়ে প্রায় সময় বিকল হয়ে যায়। তাছাড়া র্টামিনালের জায়গাও কম। যেটুকু জায়গা আছে সেই জায়গা ভরাট করলে অনেক বাস এক সাথে রাখা যাবে। যাত্রীদের অসুবিধা অনেকাংশে কমে যাবে বলে তারা জানান।

দিনাজপুর জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি জানান, ১৯৯৩ সালে দিনাজপুর পৌরসভার নিকট থেকে কেন্দ্রীয় এই বাসর্টামিনালটি ইজারা নেয়া হয়। এর পর থেকে এই টার্মিনালের কোন সংষ্কার করা হয়নি। সংষ্কারের জন্য অনেকবার পৌরসভাকে লিখিতভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। আমরা নিজেরাই ইজারার অংশ থেকে টাকা দিয়ে ছোট-খাট উন্নয়ন কাজ করেছি।

তিনি আরো বলেন, দিনাজপুর বাস টার্মিনালকে একটি আধুনিক ও ডিজিটাল টার্মিনাল হিসেবে নির্মাণ করতে হলে ২৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার প্রয়োজন। টার্মিনালের বেহাল দশার কথা জাতীয় সংসদের হুইপ ও দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিমকে অবগত করা হয়েছে। হুইপ সাহেব উপজেলা র্নিবাহী অফিসারকে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং তিনি নিজেও টার্মিনালের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

দিনাজপুর জেলা পরিহবন মালিক গ্রুপের সাধারন সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু বলেন, সানাম্য বৃষ্টিতে টার্মিনালে পানি জমে যায়। আমরা বাস মালিকরা জানি, কত কষ্টে একটা বাস নামাতে হয়। আর সেই বাসটি নষ্ট হলে মেরামত করতে কত টাকা খরচ হয়। মালিক বিধায় কাউকে কিছু বলতে পারি না। পৌরসভার কাজ বাস টার্মিনাল ঠিক করে দেয়া। টার্মিনালের ভেতরে খাল ও গর্তে ভরে গেছে। এসব গর্তে অনেকবার বাস উল্টে পড়ে গিয়ে নষ্ট হয়েছে। কিন্তু গর্তগুলো আর ভরাট করা হয় না। কবে এর সমাধান হবে জানি না।

দিনাজপুর জেলা বাস মালিক গ্রুপের তথ্যমতে, প্রতিনিদন দিনাজপুর কেন্দ্রীয় এই বাসটার্মিনাল থেকে ৩১৭টি বাস চলাচল করে। এর মধ্যে ২৭০-২৮০টি বাস নিয়মিত চলাচল করে। প্রতি বাসে ৪৫-৫০ জন যাত্রী যাতায়াত করে। সে হিসেব অনুযায়ী এই টার্মিনাল থেকে বছরে প্রায় ৫০ লাখ যাত্রী দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করে। কিন্তু সে তুলনায় টার্মিনালের সুযোগ সুবিধা পর্যাপ্ত নয়।
এ ব্যাপারে দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি টার্মিনালের উন্নয়ন চাই। কিন্তু পৌরসভার সামর্থ নেই। বহুবার মন্ত্রনালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। আমি বিএনপির মেয়র বলে আমার পৌরসভায় কোন বরাদ্দ আসে না। বরাদ্দ আসলে অবশ্যই বাস টার্মিনালের উন্নয়ন করা হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে দিনাজপুর র্টামিনালে একটি পুরাতন ভবন জীর্ণ ভবন রয়েছে। এই ভবনে একটি ক্যান্টিন, শ্রমিকদের একটি অফিস রয়েছে। এছাড়া টার্মিনাল এলাকায় পুরুষদের জন্য ১টি গনশৌচাগার ও মহিলাদের জন্য ১টি শৌচাগার রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য