আজিজুল ইসলাস বারী,লালমনিরহাট থেকে: প্রকৃতিতে এখন নবান্নের ঋতু হেমন্ত। শুরু হয়ে গেছে অগ্রহায়ণের দ্বিতীয়পক্ষ। ছোট হয়ে এসেছে দিন। বেলা না গড়াতেই দ্রুত দিন ফুরিয়ে নামছে সন্ধ্যা। কমছে তাপমাত্রা। বাতাসে হিমের ছোঁয়া। রাতে মৃদু কুয়াশা। একটু আগাম এসে গেছে শীত। যা হেমন্ত শুরুর আগেই যেন শীতের আগমন বার্তা জানান দিচ্ছে। দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে আবহাওয়া। দিনে কোথাও রোদ–আবার কোথাও মেঘ–বৃষ্টির লুকোচুরি খেলা চলছে। আবার কখনো ভারী বৃষ্টির আশংকা।

আর শেষ রাতে শীতে গা শির শির করে উঠছে। রাত থেকে ভোর পর্যন্ত কুয়াশায় ঢাকা পড়ছে চারদিক। সবুজ ঘাস ও গাছের পাতায় জমছে শিশিরকণা। গাছে গাছে এখনো ফুটছে বকুল, শিউলিসহ নানা ফুল। মাঠে মাঠে বেড়ে উঠছে সবুজ ধান। উত্তরের জনপদ লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় গত কয়েক দিন ভোর রাতে হালকা শীত অনুভূত হচ্ছে। দৃশ্যমান হচ্ছে ঘন কুয়াশা। মনে হচ্ছে যেন হারিয়ে গেছে শরৎ। হিমেল হাওয়ার সঙ্গে প্রকৃতিতে শুষ্কভাব। গত কয়েক দিন ধরে আবহাওয়ার এ পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। এদিকে গ্রামে গভীর রাত থেকে হিমেল হাওয়ায় শীতল হয়ে আসে প্রকৃতি।

শেষ রাতে শীত অনুভূত হওয়ায় রীতিমতো হালকা কাপড় মুড়িয়ে ঘুমাতে হচ্ছে। দিনভার হালকা ঠাণ্ডা হাওয়া অনুভূত হচ্ছে, তাই সকালের রোদ অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে মিষ্টি। লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার শফিকুল ইসলাম শফিক বলেন, “গত কয়েকদিন থেকে রাতে শীতের আমেজ টের পাচ্ছি। ভোর রাতের দিকে হালকা গরম কাপড়ও জড়াতে হয়।”প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী শরতের পর আসবে হেমন্তকাল। তারপর আগমন ঘটবে শীতের। গ্রামের লোকজন জানান, এ কেমন আবহাওয়া বইছে। অসময়ে শীত! জীবনে এমন আবহাওয়া আগে দেখি নি। এটা ভালো লক্ষণ মনে হচ্ছে না।’ এ বছর আগাম শীত পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন উত্তরবাংলা কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের পড়ুয়া ছাত্র মো. সোহান সাহেব । বুধবার আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, দেশের উত্তর অঞ্চলে শীত নেমেছে। আজকে রংপুরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি।

সকাল ৬টায় রংপুর অঞ্চলে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৫১ শতাংশ। তবে এ অঞ্চলে মৃদু ও মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আবহাওয়াবিদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ধকলে ঋতুর কাল বদলে যাচ্ছে। এবার তো গ্রীষ্ম আর বর্ষা একাকার হয়ে গেছে। প্রকৃতির পালাবদলের সঙ্গে বদলে যায় মানুষের জীবনধারা। প্রকৃতির মধ্যে সাড়া পড়ে যায় বদলে যাওয়া সময়ের স্বাভাবিকতা ও অস্বাভাবিকতায়। ঠাণ্ডা হাওয়ার কম্পন জাগছে সর্বত্র। ঘন কুয়াশা আচ্ছন্ন করে রাখছে রাত্রিকালীন এই চরাচর। এবার হাড় কাঁপানো কনকনে শীত নামতেও পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য