সহিংসতার ইতি ঘটিয়ে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের তাদের দায়িত্বপালন করতে না দিলে দক্ষিণ সুদানের সরকারের বিরুদ্ধে আরো পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্র এ হুমকি দিলেও এর বিরোধীতা করেছে রাশিয়া, এতে দক্ষিণ সুদানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব হবে না বলে পর্যবেক্ষণ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক মাস আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি দক্ষিণ সুদান সফর করেছিলেন। ওই সময় রাজধানী জুবাতে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সালভা কিরের সঙ্গে বৈঠকও করেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ সদস্য হ্যালি যিনি দক্ষিণ সুদান সফর করেছেন।

মঙ্গলবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনি বলেন, “কথায় আর কাজ হচ্ছে না। সহিংসতার ইতি ঘটিয়ে দক্ষিণ সুদানের দুর্ভোগ লাঘব না করলে তাদের সরকার বা যে কোনো দলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র।”

দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধ ও বেসামরিকদের বিরুদ্ধে হামলায় তাদের ভূমিকার জন্য সেপ্টেম্বরে দেশটির দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সেনাবাহিনীর সাবেক প্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

তবে দক্ষিণ সুদানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত আরো পদক্ষেপ গ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র যদি নিরাপত্তা পরিষদকে চাপ দেয় তা রাশিয়ার ভেটো ক্ষমতার কারণে ব্যর্থ হতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১৫ সালে দক্ষিণ সুদানের গৃহযুদ্ধরত দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল নিরাপত্তা পরিষদ, কিন্তু ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নেওয়া অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব ব্যর্থ হয়।

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার ডেপুটি রাষ্ট্রদূত পিটার ইলিচেভ বলেছেন, “লক্ষ্যস্থির করে নিষেধাজ্ঞা আরোপে উল্টো ফল হবে, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলেও তাই হবে। অচলাবস্থা ভাঙতে এইসব পদক্ষেপ কোনো সাহায্য করবে না বরং সঙ্কট আরো বাড়িয়ে তুলবে।”

সুদান থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার দুই বছরের মাথায় ২০১৩ সালের শেষ দিকে গৃহযুদ্ধের আবর্তে জড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ সুদান। এতে দেশটির এক কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়।

দিনকা গোষ্ঠীর সদস্য প্রেসিডেন্ট কির ও তার সাবেক ডেপুটি নুয়ের গোষ্ঠীর সদস্য রিয়েক মাখারের মধ্যে দ্বন্দ্ব থেকেই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য