আগ্নেয়গিরির উদগীরিত ছাইয়ে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র বালি দ্বীপের আকাশ ছেয়ে যাওয়ার দুই দিন পর দ্বীপটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ফের চালু করেছে ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় সময় বুধবার দুপুর ২টা ২৮ মিনিটে বিমানবন্দরটির কার্যক্রম পুনরায় শুরু করা হয় বলে জানিয়েছে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল সেবাদানকারী কোম্পানি এয়ারনাভ, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এক বিবৃতিতে এয়ারনাভ বলেছে, “বালির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।”

এর আগে বুধবার সকালে ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, বিমানবন্দরটি স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে ।

কিন্তু ওইদিনই কর্তৃপক্ষ বিমান চলাচলে জারি করা সর্বোচ্চ সতর্কতার মাত্রা এক ধাপ কমিয়ে ‘অরেঞ্জ’ ধাপে নামিয়ে আনার পর বিমানবন্দরটি ফের চালু করা হয়।

এয়ারনাভ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠকে আবহাওয়া পরিস্থিতি যাচাই ও পরীক্ষা এবং এয়ারনাভ ও অন্যান্য দলের দেওয়া তথ্য পর্যালোচনার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম ফের শুরু করার সিদ্ধান্ত হয়।

দ্বীপের আগুং আগ্নেয়গিরি থেকে প্রচণ্ড বেগে ঘন ধোঁয়া ও ছাই বেরিয়ে আসতে শুরু করার পর রোববার বালিতে বিমান চলাচলে ‘রেড এলার্ট’ জারি করেছিল ইন্দোনেশীয় কর্তৃপক্ষ।

এরপর সোমবার মাউন্ট আগুং এর আশপাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে ‘প্রবেশ নিষিদ্ধ’ এলাকার সীমানা বাড়িয়েছিল তারা। কাছাকাছি এলাকার অন্তত ১ লাখ বাসিন্দাকে সরে যাওয়ারও নির্দেশ দিয়েছিল।

ওই দিন ইন্দোনেশিয়ার যোগাযোগ মন্ত্রণালয় প্রথমে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বালির এনগুরাহ রাই (ডেনপাসার) বিমান বন্দরের কার্যক্রম ২৪ ঘণ্টা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ছাইয়ের কারণে মঙ্গলবারও দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানবন্দরটি বন্ধ রাখা হয়।

দুই দিনে অন্তত ৪৪৩টি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বালিতে আসা হাজার হাজার পর্যটক আটকা পড়েন।

সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স লিমিটেড জানিয়েছে, বুধবার থেকেই তারা সিঙ্গাপুর টু বালি ফ্লাইট পরিচালনা করা শুরু করবে।

অস্ট্রেলিয়ার কুন্টাস এয়ারওয়েজ লিমিটেড জানিয়েছে, তারা ও তাদের সাশ্রয়ী বিমান পরিবহন জেটস্টার বালিতে আটকা পড়া তিন হাজার ৮০০ গ্রাহককে ফিরিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার বালি থেকে অস্ট্রেলিয়ায় ১৬টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।

বুধবার সকালেও মাউন্ট আগুং এর উপরে সাদা ও ধূসর গাঢ় ছাইয়ের কুণ্ডুলি এবং ধোঁয়া ছিল বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে। তবে মঙ্গলবার রাতের বৃষ্টির কারণে ‘লাভার উদগীরণ’ আগের দিনগুলোর মতো স্পষ্ট দেখা যায়নি।

ডেনপাসার বিমানবন্দরটি মাউন্ট আগুং থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে।

৫৪ বছর আগে ১৯৬৩ সালে সর্বশেষ এ আগ্নেয়গিরিটি ফুঁসে উঠেছিল। সেবার লাভার উদগীরণে হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, আশেপাশের বেশ কয়েকটি গ্রাম লাভার নিচে চাপা পড়ে একেবারে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়।

ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ‘রিং অব ফায়ার’ এ অবস্থিত হওয়ার কারণে টেক্টোনিক প্লেটগুলোর ধাক্কায় ঘনঘন ভূকম্পন ও অগ্নুৎপাতের আশঙ্কা থাকে। সেখানে ১৩০টির’ও বেশি জীবন্ত আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ আছে।

৫৪ বছর পর চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে মাউন্ট আগুং ফের সক্রিয় হয়ে ওঠে। নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে আগ্নেয়গিরিটির জ্বালামুখ দিয়ে গ্যাস বেরোনো শুরু হয়।

কর্তৃপক্ষ তখন বলেছিল, ছাইয়ের মেঘ ১৯ হাজার ৬৫৪ ফুটের বেশি উচ্চতায় পৌঁছে যেতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য