জম্মু-কাশ্মিরে সর্বাত্মক বনধ পালিত হয়েছে।যৌথ প্রতিরোধ নেতৃত্বের আহ্বানে কাশ্মির উপত্যকায় বনধকে কেন্দ্র করে আজ (সোমবার) প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৭ থানা এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা কাশ্মিরি তরুণদের মুক্তির দাবিতে সেখানে বনধ পালিত হয়েছে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, নৌহাট্টা, খানইয়ার, রায়নাওয়াড়ি, এম আর গঞ্জ ও সাফাকদল এলাকায় ১৪৪ ধারা অনুসারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া মৈসুমা ও ক্রালখুদে আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উত্তর ও দক্ষিণ কাশ্মিরের মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে এ পর্যন্ত সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে মোট ৪৫ বার রেল চলাচল স্থগিত করা হল।

বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় আধাসামরিক বাহিনী সি আর পি এফ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

হুররিয়াত কনফারেন্সের প্রধান সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী, মীরওয়াইজ ওমর ফারুক এবং জেকেএলএফ প্রধান মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিকের পক্ষ থেকে যৌথ আহ্বানে ওই বনধ পালিত হয়েছে। তাদের অভিযোগ, কাশ্মিরে নিরাপত্তা বাহিনী মানুষজনের ওপরে নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা তরুণদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হচ্ছে।

কাশ্মিরে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে সাইয়্যেদ আলী শাহ গিলানী আগে থেকেই গৃহবন্দি অবস্থায় আছেন। এবার নতুন করে মীরওয়াইজ ওমর ফারুককে গৃহবন্দি করা হয়েছে। অন্যদিকে, আজ সকালে মুহাম্মদ ইয়াসীন মালিককে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করে শ্রীনগর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

আজ বনধের ফলে শ্রীনগরের স্বাভাবিক জনজীবনের ওপরে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কে সরকারি যানচলাচল বন্ধ থাকার পাশপাশি দোকানপাট, পেট্রল পাম্পসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বিক্ষিপ্তভাবে কয়েকটি এলাকায় বেসরকারি গাড়ি ও অটো রিকশা চলাচল করেছে।

এদিকে, আজ উত্তর কাশ্মিরের বান্দিপোরা জেলায় হাজিন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও প্রতিবাদী জনতার মধ্যে সংঘর্ষে এক নারী পেলেট গানের ছররা গুলিতে আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই এলাকায় গেরিলাদের সন্ধানে নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান চালানোর সময় মানুষজন সড়কে নেমে তাতে বাধা সৃষ্টি করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য