দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউপির ঈশানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঈশানপুর এস,সি উচ্চ বিদ্যালয় ও ঈশানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ঘেষে ২টি করাতকলের শব্দে পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। কাঠের গুড়ো উড়ে চোখে পড়ছে। দূর্ভোগ পোহাচ্ছে শিশু ও শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশানপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৫০ সালে, ঈশানপুর এস,সি উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৬৮ সালে ও ঈশানপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৩টি স্কুলে প্রায় ১২ শত জন শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে। ৪ বছর পূর্বে ৩টি বিদ্যালয় ঘেষে ২টি করাতকল গড়ে উঠে। ১ টির মালিক সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুনিরাম রায় অপরটির অনিল চন্দ্র রায়।

পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী কোন সরকারী অফিস আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি করে এর ২ শ মিটারের মধ্যে করাতকল স্থাপন করা যাবে না। উপজেলা পর্যায়ে এর তদারক করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তবে এসব নিয়ম অমান্য করে উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউপির মুটুনী হাটের পার্শ্বে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পার্শ্বেই করাতকল চলছে। বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ ঘেষে পূর্ব ও পশ্চিম পার্শ্বে করাতকল কিছু অংশ ঢেউ টিন দিয়ে ঘেরা। গতকাল সকাল ১১ টার দিকে দেখা যায় সেখানে কাঠ কাটা হচ্ছে পার্শ্বের মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করছে।

মাঠে ও বিদ্যালয়ের বান্দায় কাঠের গুড়া পড়ে থাকতে দেখা যায়। কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, করাতকলে কাঠ কাটার সময় গুড়া উড়ে এসে চোখে পড়ে। যন্ত্রের শব্দের ক্লাশে ঠিকমত কথা শুনা যায় না। নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক সহকারী শিক্ষক বলেন, করাতকলে কাঠ চেড়ানোর সময় বিকোট শব্দে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট হচ্ছে। বাতাসে কাঠে গুড়া উড়ে আসে পোশাকও নোংরা হচ্ছে। শ্রেণী কক্ষ সব সময় ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের অভিভাবক শরৎ চন্দ্র বলেন, করাতকলের পার্শ্বে কোন বেড়া নেই। বেড়া না থাকার কারনে কাঠ কাটার সময় কাঠের গুড়া বাতাসে চর্তুর দিকে ছড়িয়ে পড়ে।

এ সমস্যার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফ আলী বলেন, ক্লাশ চলাকালে করাতকল চালু থাকে, বন্ধ রাখতে বললেও তারা বন্ধ রাখে না। গতকাল আমাদের প্রতিনিধ সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুনিরাম রায়ের সঙ্গে তার করাতকলের সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন নিয়ম অনুযায়ী করাতকল চালাচ্ছি। করাতকলের অনুমোদন আছে কি না এ বিষয়ে তিনি কোন মন্তব্য করেন নি। অপরদিকে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত রেঞ্জার হেলাল উদ্দীন বলেন প্রতিটি করাতকল কে নোটিশ প্রদান করেছি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য।

এব্যাপারে কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদ এর মুঠোফোনে আলাপ কালে তিনি বলেন, ঐ ২টি করাতকলের অনুমোদন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য