ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলায় জমিদারদের রেখে যাওয়া সরকারী স্বার্থ সংশ্লিষ্ট জমি এখন সবেই চলে যাচ্ছে এক শ্রেনীর অসাধু চক্রের হাতে। ফুলবাড়ী সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের এক প্রকার অসাধু দলিল লেখকদের মাধ্যেমে তৈরী হচ্ছে রহরহ পাকিস্তান সময়ের জাল দলিল। তৈরী কৃত জাল দলিলের মাধ্যমে, একই জমির একাধিক ব্যক্তি মালিকানা নিয়ে দাবী করায়, ভূমি অফিসসহ আদালতে বাড়চ্ছে জমি বিরোধের মামলা। বিব্রতকর অবস্থায় পড়ছে ভূমি প্রসাশন।

জানা গেছে ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর, এই দেশে বসবাসকরা অনেক হিন্দু জমিদারেরা, তাদের বিষয় সম্পত্তি অধিকাংশ রেখে, সামান্য কিছুর জমি বদল করে ভারতে চলে যায়। তারা ভারতে চলে যাওয়ার পর এই জমি গুলো, এলাকা ভিক্তিক কিছু অসাধু ব্যাক্তি আত্মসাথ করার হীন উদ্দেশ্য দখল করে নেয়। এর পর ১৯৭১ সালে মুক্তি যুদ্ধ চলার সময়, কতিপয় দুস্কৃতিকারীরা ফুলবাড়ী সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে অগ্নিসংযোগ করেন, এতে সাবরেজিষ্ট্রি অফিসে রক্ষিত ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত সকল ভুলিয়ম পুড়ে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, কতিপয় অসাধু ব্যাক্তি, সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের কতিপয় অসাধু দলিল লেখকদের সাথে যোগসাজজে একের পর এক জাল দলিল সৃষ্টি করতে শুরু করে, জমিদারদের রেখে যাওয়া জমি আত্মসাথের উদ্দেশ্যে।

উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানাগেছে বর্তমানে অর্পিত ”খ” তপশিল ভুক্ত জামি অবমুক্তি চেয়ে ৪ হাজার ৮০০ আবেদন জমা হয়েছে, এর মধ্যে প্রায় ৮০০ আবেদন শুনানী হয়েছে, তার মধ্যে ৫০০টি আবেদন নিস্পত্তি হয়েছে, শুনানীর অপেক্ষায় আছে আরো ৪ হাজার আবেদন। ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, শুনানীর অপেক্ষায় থাকা ৪ হাজার আবেদনের মধ্যে ২ হাজার আবেদন আছে, যা সরকারী স্বার্থ জড়িত জমি।

উপজেলা সেটেলম্যান্ট কর্মকর্তা আফছার আলী যায়যায়দিকে বলেন, প্রতিদিনে মালিকানা জটিলতা নিয়ে ১০০ টি করে মামলা শুনানী হচ্ছে, জমিদারের জমি গুলো নিয়ে একাধিক ব্যাক্তি মালিকানা দাবী করছে, মালিকানা দাবী করা প্রত্যের নিকট পাকিস্তানের সময়ের ১৯৬৪ সাল থেকে ১৯৭০ সালের দলিল যার কোন ভুলিয়ম নাই।

উপজেলা ভুমি অফিসের সার্ভেয়ার খায়রুল আলম যায়যায়দিকে বলেন, যে জমিদার ১৯৬১ সালে দেশ ত্যাগ করে ভারতে চলে গেছে, সেই জমিদারের রেজিষ্ট্রারী করা ১৯৬৫ সালের দলিল জমা দিয়ে জমির মালিকানা দাবী করছে। যে জমিদার ১৯৬১ সালে ভারতের নাগরীক হয়েছে সেই জমিদার ১৯৬৫ সালে পাকিস্তানে এসে কিভাবে জমি রেজিষ্ট্রারী দিল, সেইটিই বড় প্রশ্ন। এই দলিল গুলো সবেই পরবর্তিতে তৈরী করা হয়েছে। এছাড়া অর্পিত ”ক” তপশির বর্নিত জমি অবমুক্তি চেয়ে ট্রাইবুনালে আবেদ আছে প্রায় দুই হাজারের অধিক।

ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব যাযযায়দিকে বলেন এই থানায় যত গুলো আইনশৃংখলা ভঙ্গের ঘটনা ঘটে, তার অধিকাংশ ঘটনা জমি নিয়ে বিরোধ থেকে সৃষ্টি। তিনি বলেন প্রতিদিনে যে অভিযোগ গুলো থানায় আগে তার ৮০ ভাগ জমির বিরোধ নিয়ে।

ফুলবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রার্প্ত কর্মকর্তা (বর্তমানে লিলফামারী জেলার ডোমার থানায় কর্মরত) মকছেদ আরী মুঠোফোনে যায়যায়দিনকে বলেন, ফুলবাড়ী থানায় কর্মরত থাকা অবস্থায়, তার নেতৃত্বে পাকিস্তানের সময়ের সাবরেজিষ্টারের সীলসহ, সরকারী কর্মকর্তার ২৫০টি সীল ও একাধিক পাকিস্তানের স্ট্যাপ¥সহ জালদলিল তৈরী কারক এক দলিল লেখককে আটক করা হয়েছিল।

এদিকে উপজেলা ভুমি অফিস সুত্রে জানা গেছে, হিন্দু জমিদারদের রেখে যাওয়া কয়েক হাজার একর জমি, এখন জাল দলিলের মাধ্যেমে মালিকানা দাবী করছে।

এলাকার সচেতন মহল বলছেন এই সকল জমিদারের রেখে যাওয়া জমি অসাধু চক্রের হাত থেকে উদ্ধার করে, তা লিজের মাধ্যমে ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে দিলে ভুমিহীনেরা জমি পাবে ও সরকার রাজস্ব্য পাবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য