আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: দিপক কুমার বাবাকে হারান তিন বছর বয়সে। অভাবের সংসারের জীবিকা নির্বাহের হাতিয়ার একমাত্র মানুষটি চলে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েন তার মা কিরন বালা। তাই জীবিকা নির্বাহের জন্য ঝিয়ের কাজ বেছে নেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগে দিপককে সংসারের হাল ধরতে হয় মায়ের পাশাপাশি।

তাই সেও তার বড় ভাই সুকুমারের সাথে দিন মজুরের কাজ শুরু করে। এক টুকরো সুখের খুঁজে, মায়ের মুখে হাসি ফোটাতে অবিরাম ছুটে চলায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি অভাব-অনটন। তাই দিন মজুরের পাশাপাশি দিপক পড়াশুনা চালিয়ে যায়।

সব কিছুকে পিছনে ফেলে শত কষ্টের মাঝেও সে এক এক করে এইচএসসি পাস করে। তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এমনকি মেধা তালিকায় স্থান করে জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগও পেয়ে যায়। কিন্ত অর্থের কারণে থমকে আছে দিপকের ভর্তি।

চুড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে এখন তার সব চেয়ে বড় বাঁধা হয়ে দাড়িয়েছে এই অর্থ। দিপক লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার পূর্ব-নওদাবাস গ্রামের মৃত দোলচাঁদ চন্দ্র বর্মনের ছোট ছেলে। তার মা কিরন বালা ও বড় ভাই সুকুমার বর্মনকে নিয়ে তাদের অভাবের সংসার।

দিপক জানায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘এ’ ইউনিট থেকে ভর্তি পরিক্ষা দিয়ে- ২৮৮, ই-ইউনিটে- ৩০১ এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডি’ ইউনিট থেকে ৫৮০ মেধা স্থান অর্জন করে ভর্তির সুযোগ পায়। সে এসএসসিতে জিপিএ-০.৫ ও এইচএসসিতে জিপিএ ৪.০৮ পেয়েছে। কিন্ত সে এত ভালো ফলাফল ও মেধা স্থান অর্জন করেও অর্থের অভাবে ভর্তি হতে পারছে না। আমি যাতে লেখাপড়া শেষ করে আমার কাঙ্কিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি তার জন্য সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা চাইছি।

তার মা কিরন বালা জানান, বাবা ছোয়া কোনা ছোট থাকি খুব কষ্ট করেছে। ওর বাপ মারা যাবার পর থাকি মানুষের বাড়ি বাড়ি কাজ করি খাওয়াছুক। আজ ভালো জায়গাত পড়ির সুযোগ পাইছে। কিন্ত টাকা নাগে। মোরটে তো টাকা নাই। মুই এলা টাকা কোনটে পাং। তোমরালা একনা ব্যবস্থা করি মোর ছোয়া কোনাক ভর্তি করি দেও।

হাতীবান্ধা মডেল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, দিপক কুমার এ কলেজের মেধাবী ছাত্র ছিলেন। আমরা তাকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করে ছিলাম। উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হওয়ার জন্য এখন অনেক খরচের প্রয়োজন। বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে হয়তো দিপকের স্বপ্নপূরণ হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য