বাজারে আলুর দাম কম। বিগত বছর জমি থেকে আলু তুলে পানির দামে বিক্রি করতে হয়েছে। এবারও এমন শঙ্কা রয়েছে। উৎপাদন খরচ সহ সব মিলে লোকসান হওয়ার চিন্তায় গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় এবার আলু চাষের প্রতি আগ্রহ নেই কৃষকের।

আলু লাগানোর সঠিক সময় অক্টোবরের শেষ থেকে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। জমি চাষ দিয়ে তৈরি করে নিলেও তাতে অন্যন্য ফসল আবাদে ব্যস্থ কৃষকরা। গতকাল রোববার উপজেলার আমদির পাড়া গ্রামের কৃষক কফিল উদ্দিন জানান, প্রতি বছর দুই বিঘা জমিতে আলু চাষ করি। এবার এখনই আলুর দাম কম থাকায় বেশি আবাদ করে লোকসানের চিন্তা থাকায় নিজেদের খাওয়ার জন্য সামান্য জমিতে আলু লাগিয়েছে ওই কৃষক।

একই কথা জানিয়ে উপজেলার জুমারবাড়ি ইউনিয়নের বাজিতনগর গ্রামের কৃষক ছাইদুর রহমান ও বাটি গ্রামের কৃষক ইয়াকুব আলী বলেন, বিগত বছর আলু আবাদ করে লোকসান হয়েছে। এবার আলুর আবাদের চিন্তা বাদ দিয়েছি। অনেকে আবার আবাদ করবে কি না তা নিয়ে দোটানার মধ্যে ছিলো। দেরি করে আলু চাষ করায় ফলনও ব্যাপকভাবে কমবে বলে জানান তারা।

এদিকে বিভিন্ন হাটে-বাজারে প্রতি মণ (৪০ কেজি) আলু বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকায়। কৃষকরা জানান, বিগত বছর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় প্রতি মণ আলু বিক্রি হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত বছর ৩ শ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৩ শ ৪৩ হেক্টর জমিতে।

বীজ কেনা ছাড়াও সার-কীটনাশক ও সেচ সহ কোন ভাবেই উৎপাদন না ওঠার ভয়ে এবার তারা আলু চাষ করে ঝুঁকি করা নিয়ে চিন্তায় ছিলো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা একেএম মবিনুজ্জামান জানান, এবার উপজেলায় ৩শ ৪৩ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আবাদ কি পরিমান হয়েছে তা নিরুপণের কাজ চলছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য