আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন নদী থেকে অবাধে মেশিন দিয়ে উত্তোলন করা হচ্ছে বালু ও পাথর। ‘বোমা’ মেশিন নামে পরিচিত এসব মেশিনের মাধ্যমে ভূপৃষ্ঠের ৫০ থেকে ২০০ ফুট গভীর থেকে প্রতিদিন বালু ও পাথর তোলা হলেও প্রশাসনেরও কার্যকর ভূমিকা নেই। ফলে অব্যাহতভাবে পাথর-বালু উত্তোলনের কারণে হুমকিতে পড়েছে ব্রিজ, রাবার ড্যামসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মাণ করা ব্লোক পিসিংয়ের বাঁধ।

আর এভাবে পাথর বালু উত্তোলন বন্ধে পরিবেশ ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের যেমন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তেমনই খোদ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানা গেছে। কিন্তু এসবের কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছে না অসাধু পাথর ও বালু ব্যবসায়ীরা। জানা গেছে, প্রায় দু’মাস ধরে হাতীবান্ধা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ‘বোমা’ (৬ সিলিন্ডারযুক্ত শ্যালো মেশিন) মেশিনের মাধ্যমে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।

অবৈধভাবে তোলা এসব বালু-পাথর আবার বিক্রি করা হচ্ছে ব্যবসায়ীসহ বিভিন্নজনের কাছে। ফলে উপজেলার বিভিন্ন নদী থেকে পাথর ও বালু উত্তোলনের মহোৎসব চললেও স্থানীয় প্রশাসন তা দেখেও না দেখার ভান করে চলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলা সানিয়াজান ব্রিজের ৫০ মিটার অদূরেই নদীর মাঝখানে বসানো হয়েছে ‘বোমা’ মেশিন। সেই মেশিনের মাধ্যমে অনেক গভীর থেকে উঠে আসছে বালুর পাশাপাশি পাথরও।

এ সময় ওই মেশিন পরিচালনাকারী আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি একজন শ্রমিক হিসেবেই সেখানে কাজ করছেন। মেশিনের প্রকৃত মালিক নিজ শেখসুন্দর গ্রামের আবদুল্যাহ। পরে আবদুল্যাহর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, তিনি মেশিন মালিক হলেও সানিয়াজান নদীর ওই ব্রিজ ঘেঁষে বসবাসকারী স্থানীয় এক বাসিন্দার মাটি ভরাট করতেই বালু তোলা হচ্ছে।

এতে পাথর উঠছে না দাবি করে ওই ‘বোমা’ মেশিনের মালিক আবদুল্ল্যাহ বলেন, ওখান থেকে ২৫ হাজার সিএফটি বালুর বিপরীতে হাজার প্রতি এক হাজার ৫ শত করে টাকা চুক্তিতে ওই বালু তোলার কাজে মেশিন ব্যবহৃত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন তিনি। ওই সানিয়াজান ব্রিজের প্রায় ২০০ মিটার ভাটিতে রয়েছে একটি রাবার ড্যাম।

স্থানীয় কৃষকদের সেচ সুবিধা দিতে এলজিইডির অধীন প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে সানিয়াজান নদীর ওপর নির্মাণ করা হয়েছে ওই রাবার ড্যামটি। কিন্তু ওই রাবার ড্যাম ঘেঁষে একটু ভাটিতে বসানো হয়েছে দুটি ‘বোমা’ মেশিন। তবে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন দুটি বন্ধ করে দ্রুত গা-ঢাকা দেন সংশ্লিষ্ট মেশিন মালিকরা। তবে সেখানে একটি মেশিনের পাশে পাথরের স্তূপ দেখা গেছে।

যোগাযোগ করা হলে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী অজয় কুমার সরকার প্রথমে বিষয়টি তার জানা নেই বলে উল্লেখ করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি ফোন কল করে এ প্রতিবেদককে জানান, ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি সানিয়াজন নদীর রাবার ড্যাম আর ব্রিজের ৭০০ ফুট দূর থেকে বালু তোলার বিষয়টি জানেন বলে স্বীকার করেছেন। এরপরও একজন উপসহকারী প্রকৌশলীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য