জাতিগত নিধনের জন্য অভিযুক্ত মিয়ানমারের সফরের উদ্দেশ্যে ভ্যাটিক্যান ছেড়েছেন পোপ ফ্রান্সিস।

রোববার রাতে তিনি ইতালির রাজধানী রোম থেকে তিনি মিয়ানমারের উদ্দেশ্যে রওনা হন, সোমবার তার দেশটিতে পৌঁছার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।

মিয়ানমারে কোনো পোপের এটাই প্রথম সফর হতে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিয়ানমার সফরকালে দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের কথা বলতে গিয়ে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করেন কি না, সে দিকেই সবার মনোযোগ থাকবে বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জোরালোভাবে এই নামটি প্রত্যাখ্যান করে আসছেন, সফরে পোপ এই শব্দটি ব্যবহার করলে তা সম্ভাব্য সহিংসতার কারণ হতে পারে এমন উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

সফরে মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি ও দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার কথা রয়েছে পোপের।

মিয়ানমার থেকে পোপ বাংলাদেশে আসবেন। এখানে রোহিঙ্গাদের ছোট একটি দলের সঙ্গে পোপের সাক্ষাতের কথা রয়েছে।

৮০ বছর বয়সী পোপ ফ্রান্সিস তার উদার দৃষ্টিভঙ্গী ও বৈশ্বিক অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য পরিচিত।

অগাস্টে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইন রাজ্যে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নতুন করে নির্মূলাভিযান শুরু করার পর থেকে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে।

এই নিপীড়নের নিন্দা জানিয়ে দেওয়া বিবৃতিতে ‘আমাদের রোহিঙ্গা ভাই ও বোনেরা’ বলেছিলেন পোপ, কিন্তু মিয়ানমার সফরে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করার জন্য পোপকে অনুরোধ জানিয়েছেন মিয়ানমারের একমাত্র ক্যাথলিক কার্ডিনাল। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে এই শব্দটির ব্যবহারে সহিংসতা শুরু হতে পারে বলে ওই কার্ডিনাল আশঙ্কা করছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

মে মাসে ভ্যাটিক্যানে সু চির সফরের সময় পোপের এ সফরের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর অগাস্ট থেকে রোহিঙ্গা সঙ্কট শুরু হয়।

শান্তিতে নোবেল জয়ী সু চি রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের কোনো প্রতিবাদ না করায় বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন।

মিয়ানমারে ছয় লাখ ৬০ হাজার ক্যাথলিক খ্রিস্টান অনুসারীর বসবাস। পোপের সফরের সময় তাদের একটি বড় অংশ মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে জড়ো হয়ে পোপের সঙ্গে প্রার্থনায় অংশ নিবে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য