মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে অনিদিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিন অতিবাহিত হয়েছে। শনিবার (২৫ নভেম্বর) পরিবহন ধর্মঘটের তৃতীয় দিন সকাল থেকে ধর্র্মঘটে যুক্ত হয়েছে ট্রাক, ট্রাক্টর, ট্যাংকলরি, পিকআপ ভ্যান, মাইক্রেবাসসহ অন্যান্য যানবাহন।

পরিবহন ধর্মঘটের ফলে দিনাজপুরের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। সবচেয়ে বেশী দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দুরের যাত্রীদের। কোন যানবাহন না পেয়ে বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন এসব যাত্রী। এছাড়া কোন যানবাহন না পেয়ে অন্যান্য যাত্রীদের পায়ে হেঁটে চলতে দেখা গেছে। ধর্মঘটে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদেরও সমস্যায় পড়তে হয়েছে। অনেক নারীকে ছোট শিশু কোলে নিয়ে ও মালামাল নিয়ে অনেক দুরের পথ হাঁটতে দেখা গেছে।

এদিকে পরিবহন ধর্মঘটের সময় শনিবার সকালে পরিবহন শ্রমিকরা অটোরিক্সা চলাচলে বাধার সৃষ্টি করেছে। শ্রমিকরা সকালে সুইহারী দিনাজপুর সরকারী কলেজ মোড়, সদর উপজেলা পরিষদের সামনের রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে অর্ধশতাধিক অটোরিক্সা ভাঙচুর করেছে পরিবহন শ্রমিকরা। তবে দুপুরের দিকে এই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন সুপার মো. গোলাম মোস্তফা জানান, বাসসহ অন্যান্য পরিবহন বন্ধ থাকায় রেলপথে যাত্রীদের ভিড় বেড়েছে। রেল বিভাগকে যাত্রীদের ভিড় সামাল দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সাদারণ সম্পাদক শেখ মো. বাদশা জানান, শনিবার জেলা সকাল ১২টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সাথে জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। হাবিপ্রবি কর্র্তপক্ষ ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি হয়েছে। রোববার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টায় আবানো জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে মোটর পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দের সাথে হাবিপ্রবি কর্তৃপক বৈঠকে বসবে। ওই বৈঠকে ক্ষতিপূরণের বিষযটি চুড়ান্ত হলে রোববার বেলা ১১টার পর হতে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে জানান শেখ মো. বাদশা।

শনিবারের বৈঠকে হাবিপ্রবির ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ অন্যান্য শিক্ষক ও ছাত্র নেতৃবৃন্দ, জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি এম রফিক, সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি, সহ-সভাপতি মো. সাইফুর রজ চৌধুরীসহ অন্যান্য শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় দিনাজপুর হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) ছাত্রদের বহন করা একটি বাসের সঙ্গে তৃপ্তি পরিবহন নামে একটি বাসের সাইড দেয়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের সাথে শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে মহারাজা স্কুল মোড়ে শ্রমিক ও ছাত্রদের মধ্যে সংর্ঘষ হয়। এতে উভয় পক্ষের ৭ জন আহত হয়। আহতদের দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে দিনাজপুর হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনে রাস্তায় বাঁশ ফেলে ও টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ করে। এ সময় দু’টি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম হাবিপ্রতি কর্তৃপক্ষ, প্রশাসন, দিনাজপুর মটর পরিবহন মালিক গ্রুপ, জেলা মটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাদের যৌথ সভায় বসলেও কোন প্রকার সমঝোতা সভা ছাড়াই সমাপ্ত হয়।

সভার পর ওই দিন রাতে দিনাজপুর হাবিপ্রবির সামনে বাস পোড়ানো ও শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ ১৫০ জনকে আসামী করে কোতয়ালী থানায় পৃথক দু’টি মামলা দায়ের করা হয়।

দিনাজপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সেলু বাদী হয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ১০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

অপরদিকে শ্রমিকদের ওপর হামলা ও মারপিটের ঘটনায় দিনাজপুর মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী বাদী হয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন, সহকারী প্রক্টর সৌরভ পাল চৌধুরী, ছাত্র পরামর্শক ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক প্রফেসর শাহাদৎ হোসেন খানসহ ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন।

এদিকে যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন হাবিপ্রবি ক্যাম্পাস, দিনাজপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, সুইহারী কলেজ মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য