দিনাজপুর সদরঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য’ ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার” এ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিশ্বগ্রামাণ্য ঐতিহ্য’র স্বীকৃতি লাভ করায় দিনাজপুরে বর্নাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় ছিল বজ্রকণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণ শোনার পর মুক্তিযোদ্ধারা রণক্ষেত্রে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে ফেটে পড়ত এবং উজ্জীবিত হতো নতুন করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত। সত্যিকার অর্থে ১৯৭১ এর ৭ মার্চ থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি মানে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস পর্যন্ত একটিই কমান্ড ছিল, আর তা ছিল ৭ মার্চের ভাষণ। এ ভাষণের জন্যই মুক্তিযুদ্ধকালীন বাঙালি জাতি টের পায়নি বঙ্গবন্ধুর শারীরিক অনুপস্থিতি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই একমাত্র ভাষণ যার মধ্য দিয়ে গোটা বাঙালি জাতি সব দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, সন্দেহ, অবিশ্বাস ঝেড়ে স্বাধীনতার জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়। একটি রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণই হচ্ছে বিশ্বের সেরা ভাষণ। স্বাধীনতাকামী মানুষের মুক্তির সনদ।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ আগেই বিশ্বখ্যাতি পেলেও এবার ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যে অন্তর্ভূক্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সুদৃঢ় হ’লো। গত ৩০ অক্টোবর’১৭ ইউনেস্কোর ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুরু ভাষণকে বিশ্বা প্রাধান্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বিশ্বের আন্তর্জাতিক রেজিষ্ট্রার স্মৃতিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মেমোরি অব ওয়ার্ল্ড রেজিষ্টারে সব মহাদেশ থেকে ৪২৭টি প্রামান্য দলিল ও সংগ্রহ তালিকাভূক্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ভাষণ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।

২৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় দিনাজপুর জেলা প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় কর্মসুচির আলোকে সুশৃঙ্খল, সুসজ্জিত, বর্ণাঢ্য ও শান্তিপূর্ণ আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসন চত্বরে স্থাপিত শহিদ স্মৃতি স্তম্ভে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বক্তারা উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর ৭ মার্চের ভাষণে বাঙালি জাতির বঞ্চনার কথা বলেছেন, ২৩ বছরের রাজনৈতিক ইতিহাসের কথা বলেছেন, বাঙালির মুক্তির সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির কথা বলেছেন, বস্তুতঃ এটিই ছিল স্বাধীনতার ঘোষণা। তাই বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বাস্তবায়নের জন্য লাখো শহীদের রক্তে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে, চলমান উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার জন্য, আগামী প্রজন্মের একটি সুখী, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বির্নিমানে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৭ মার্চের ভাষণে ৭১’র অগ্নিঝরা মার্চের মতো আবার জ্বলে উঠার এখনই সময়।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলমের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও সাবেক এমপি এ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ, পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম, জেলা সিভিল সার্জন মওলা বকস্ চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) গোলাম রাব্বী, জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুকুজ্জামান চৌধুরী মাইকেল, শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান রাজু, কোতয়ালী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চন, দিনাজপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি স্বরুপ কুমার বক্সী বাচ্চু, বীরমুক্তিযোদ্ধা লোকমান হাকিম, বীরমুক্তিযোদ্ধা মোঃ সাখাওয়াত হোসেন, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তারিকুন বেগম লাবুন, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ ওয়াহেদুল আলম আর্টিষ্ট, পৌর কাউন্সিলর আলহাজ্ব জিয়াউর রহমান নওশাদ, শহর যুবলীগের সবাপতি আশরাফুল আলম রমজান, দিনাজপুর বিএমএর সাধারন সম্পাদক বিকে বোস, শহর মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক সেহেলী আক্তার ছবি প্রমুখ।

এর আগে সকাল ১০টায় বড় মাঠ দিনাজপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে বর্ণাঢ্য বিশাল র‌্যালী বের হয়। সমগ্র শহর জুড়ে বর্ণাঢ্য এই র‌্যালীটি প্রদক্ষিণের সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ শ্লোগানে আনন্দে মুখরিত হয়ে উঠে। র‌্যালীতে প্রশাসনের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী, ছাত্র-ছাত্রী ও সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।

চিরিরবন্দরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অব দ্যা’ওয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টার’ এ অর্ন্তভুক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি লাভের অসামান্য অর্জন উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আনন্দ মিছিল ও শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ১০টায় চিরিরবন্দর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও শোভাযাত্রা বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা ও ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষনের উপর প্রতোযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: গোলাম রব্বানী সভাপত্বিতে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব আইয়ুবুর রহমান শাহ্, সাধারন সম্পাদক অধ্যক্ষ আহসানুল হক মুকুল, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো: মঞ্জুরুল হক। এ সময় উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তরুবালা রায়, উপজেলা কৃষি অফিসার মো:মাহমুদুল হাসান, চিরিরবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: হারেসুল ইসলাম, সমবায় অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো:ওবায়দুর রহমান, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিমউদ্দিন সরকার গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম জিএ পারভেজ, আমেনা বাকি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: মিজানুর রহমান,উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সকল সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীসহ আওয়ামীলীগ ও এর সকল অঙ্গ সংগঠনের সকল নেতাকর্মী ও আপামর জনসাধারন উপস্থিত ছিলেন।

কাহারোলঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কের “ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড রেজিষ্টার” এর অর্ন্তভূক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য” স্বীকৃতি লাভের জন্য সারাদেশের ন্যায় কাহারোল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ২৫ নভেম্বর’১৭ আনন্দ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত। এদিবসটি পালন উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে সকাল ১০ টায় কাহারোল উপজেলা পরিষদ থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ব্যানার, ফেস্টুন ও বাদ্যযন্ত্র সহ উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা স্মৃতি সৌধে গিয়ে শোভাযাত্রা শেষ হয়। এই শোভাযাত্রায় উপজেলার সকল সরকারী দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীবৃন্দ, উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ছাত্র/ছাত্রীবৃন্দ অংশ গ্রহণ করে। শোভাযাত্রায় প্রায় ২ হাজার লোকের সমাগম ঘটে। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাসিম আহমেদের সভাপতিত্বে, দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মামুনুর রশীদ চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এ,কে,এম ফারুক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ হাফিজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা ডেপুডি কমান্ডার মোঃ আব্দুস সালাম, কাহারোল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আইয়ুব আলী প্রমুখ। আলোচনা সভা শেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর উপর ছাত্র/ছাত্রীদের মাঝে কুইজ ও রচনা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় এবং সন্ধ্যা ৭ টায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও প্রজেক্টরের মাধ্যমে ওরা ১১ জন ছবিটি প্রদর্শন করা হবে।

বোচাগঞ্জঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষন “মেমোরি অব দ্য’ ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিষ্টার”-এ অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে “বিশ্বপ্রমান্য ঐতিহ্যে’র স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে সারাদেশ ব্যাপি আনন্দ শোভাযাত্রার অংশ হিসেবে আজ ২৫ নভেম্বর শনিবার সকালে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে। সকাল ১০টায় উপজেলা ক্যাম্পাস থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে। শোভাযাত্রায় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী, সরকারী চাকুরী জীবিরা ছাড়াও প্রায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

ফুলবাড়ীঃ ইউসেক্সো কর্তৃক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চ এর ভাষনকে বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যে হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায়, আজ শনিবার সকাল ১০ টায় উপজেলা প্রসাশনের উদ্যোগে আনান্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আনান্দ শোভাযাত্রাটি সকাল ১০ টায় উপজেলা চত্তর থেকে বের হয়ে, পৌর শহর প্রদক্ষিন করে পূনরায় উপজেলা চত্তরে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা চত্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুস ছালাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ফুলবাড়ী সার্কেল) রফিকুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এটিএম হামিম আশরাফ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হায়দার আলী শাহ, সাধারন সম্পাদক মুশফিকুর রহমান বাবুল, ফুলবাড়ী মুক্তিযোদ্ধ সংসদের ভারপ্রাপত কমান্ডার এছার উদ্দিন, ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ নাসিম হাবিব, শহীদ স্মৃতি আর্দশ্য ডিগ্রী কলেজের উপাধক্ষ্য ও বেতদিঘি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস শাহ প্রমুখ। আনান্দ শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রতিনিধিগণ অংশ গ্রহন করেন। শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভাশেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে স্বাস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

বিরামপুরঃ দিনাজপুর জেলার বিরামপুরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষন ইউনেস্কো ”মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল” রেজিস্ট্রার অর্ন্তভূক্তির মাধ্যমে ”বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্যের” স্বীকৃতি লাভের অসামান্য অর্জনকে সারা দেশে একই দিনে উদযাপন উপলক্ষ্যে আনন্দ শোভাযাত্রাংয় শামিল হতে প্রতিবন্ধিরাও ছুটে এসেছে। বিরামপুর চাঁদপুরের অটিষ্টিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনামুল হকের নেতৃত্বে স্কুলে অর্দ্ধ শতাধিক প্রতিবন্ধি শিশু শোভাযাত্রায় অংশ গ্রহণ করেছে। উপজেলা চেয়ারম্যান পারভেজ কবীর, নির্বাহী অফিসার মোঃ তৌহিদুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আলতাফুজ্জামান মিতা, পৌর মেয়র লিয়াকত আলি সরকার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম রাজুসহ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, স্কুল,কলেজ মাদ্রাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী ও সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা চত্বরে মিলিত হয়ে আলোচনা সভা করেছেন। আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধুর চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

খানসামাঃ খানসামা উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক আয়োজিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর “মেমোরি অব দ্য ওয়াল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্ট্রার” এর অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ায় খানসামা উপজেলা চত্বরে এক বিশাল আনন্দ শোভাযাত্রা উপজেলার প্রধান প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষীন শেষে উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পাদদেশে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শনিবার সকাল ১০টার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো: সোলায়মান আলীর সভাপতিত্বে ৭ই মার্চের মহান স্বাধীনতার স্থপতি বাংলাদেশের রুপকার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ ইউনেস্কোর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃতি পাওয়ার উপর বক্তব্য রাখেন খানসামা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো: সহিদুজ্জামান শাহ্, খানসামা থানা অফিসার ইনচার্জ মো: আব্দুল মতিন প্রধান, উপজেলা কৃষি অফিসার মো: আফজাল হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মো: সাইফুল ইসলাম প্রভাষক, সাধারণ সম্পাদক সফিউল আযম চৌধুরী লায়ন, ৪নং খামারপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাজেদুল হক সাজু, উপজেলার ১নং আলোকঝাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের আহ্বায়ক মো: মোকছেদুল গণি শাহ্ প্রমুখ। এছাড়াও উপজেলার সকল বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্র-ছাত্রী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট মিডিয়ার সকল সাংবাদিকবৃন্দ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন।

পার্বতীপুরঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া ৮ হাজার লোকের মাঝে মিনারেল ওয়াটার ও চকলেট বিতরন করেছেন উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও শহরের সুনামধন্য সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান পার্বতীপুর ইয়ংস্টার ক্লাবের সভাপতি ক্রীড়াবীদ ও সমাজসেবক আমজাদ হোসেন। আনন্দ শোভাযাত্রায় অংশ নেয়া ৮ হাজার লোকের মাঝে তিন হাজার মিনারেল ওয়াটার (পানির বোতল) ও তিন হাজার চকলেট বিতরন করা হয়। এছাড়াও আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে পার্বতীপুর ইয়ংস্টার ক্লাবে দুপুরে প্রীতিভোজ, আদিবাসীর ঐতিহ্যবাহী নিত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় আনন্দ শোভাযাত্রায় বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৮ হাজার লোক শোভাযাত্রাটিতে অংশ নেয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য