মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর সংবাদদাতাঃ সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের অধীনস্থ রেলওয়ে কারখানাসহ ৭টি রেলওয়ে দপ্তর জনবল সংকটে ধুকছে। ফলে প্রতিটি দপ্তরে নিয়মিত কাজে অচলাবস্থার সৃস্টি হয়েছে। এসব দপ্তরে নতুন লোক নিয়োগ না হলে অনেক কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে হতে পারে। ইতোমধ্যে এর আলামত হয়েছে। কারণ জনবল কমলেও কাজ কমেনি, বরং কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কাজ সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে সময় মেনে অনেক কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না দপ্তরগুলোতে।

বিশেষ করে রেলওয়ের প্রাণ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বেহাল দশা চলছে। কারখানায় যাত্রীবাহি কোচ ও ওয়াগন মেরামত এবং যন্ত্রাংশ তৈরীর মেশিন, প্লান্ট চালানোর জনবলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে কারখানার মাসিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সিডিউল মত কোন কোন কাজই সম্পন্ন করা যাচ্ছে না। কারখানার কাজের সিডিউল ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। রেলওয়ে কারখানার ট্রেড ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ ও শ্রমিক-কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য মিলেছে।

সূত্র মতে জানা যায়, কারখানায় বার্ষিক ৬৪২টি বিজি ও এমজি কোচ এবং ১ হাজার ৫৩৫টি বিজি ওয়াগনজ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের লক্ষ্যস্থির করা রয়েছে। কিন্তু জনবল সংকটের মুখে উৎপাদনের ওই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে না। কাজের গুণগত মান বজায় রাখা দুরুহ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশ তৈরীর ক্ষেত্রে চলছে রুগ্ন দশা। যন্ত্রাংশ তৈরীর ৭৮৭টি মেশিন ও প্লান্টস চালানোর জন্য মঞ্জুরী পদ রয়েছে ২৫৫ জন। সেখানে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্রা ১০৯ জন শ্রমিক-কারিগর। পদ শূণ্য রয়েছে ১৪৬ জনের। এতে স্বল্প সংখ্যক লোক দিয়ে সব মেশিন চালানো যাােচ্ছ না। আবার অনেক মেশিন ও প্লান্টসে লোক না থাকায় অচল হয়ে আছে। ফলে অনেক গুরুত্বর্পূ যন্ত্রাংশঘ তৈরী বন্ধ হয়ে গেছে। আর এসব যন্ত্রাংশের চাহিদা মেটাতে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে মালমাল। এতে করে রেলওয়েকে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে হচ্ছে।

অপরদিকে যাত্রীবাহী কোচ মেরামতের কাজেও চরম জনবল সংকট বিরাজ করছে। এ কাজের জন্য ৩ হাজার ১৬৯ জন জনবল মঞ্জুরী রয়েছে। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২০১ জন। বাকি ১ হাজার ৯৫৬ পদে কোন লোক নেই। ফলে মেরামত কাজে জনবল সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জনবল অভাবে মাসিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। এতে করে যাত্রীবাহী কোচ ও ওয়াগন মেরামত করার সিডিউল সময় ভেঙে পড়েছে। সময় মেনে মেরামত কাজ করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া প্রতি মাসে অভিজ্ঞ শ্রমিক-কারিগর অবসরে যাওয়ায় দিন দিন দক্ষ জনবলের তীব্র সংকট দেখা যাচ্ছে। নতুন লোক নিয়োগ না হলে ১/২ বছরের মধ্যে মেরামত কাজও বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কারখানা সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে রেলওয়ে কারখানা ছাড়াও সৈয়দপুরে রেলওয়ের আরও ৬টি দপ্তর রয়েছে। দপ্তরগুলো হল রেলওয়ে হাসপাতাল, জেলা সরঞ্জাম দপ্তর, হিসাব দপ্তর, ব্রীজ কারখানা, রেলওয়ে স্কুল ও পূর্ত দপ্তর রেলওয়ের নানামুখী কাজের সঙ্গে জড়িত। এই ৬ দপ্তরে জনবল থাকার কথা ৯৫০ জন। কিন্তু বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৪৫৬ জন। পদ শূণ্য রয়েছে ৫৯৪ নের। এর মধ্যে হিসাব বিভাগ, ব্রীজ কারখানা ও জেলা সরঞ্জাম দপ্তরে অর্ধেকেরও কম জনবল রয়েছে। ফলে নিয়মিত কাজ করতে হিমশিম খাচ্ছে দপ্তরগুলো। কাজ সচল রাখতে একজনকে ৪/৫টি শাখার কাজ করতে হচ্ছে। ফলে মানসিক যন্ত্রণার শিকার হচ্ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এছাড়াও অন্যান্য দপ্তরেরও চলছে প্রকট জনবল সংকট। এতে করে সৈয়দপুর রেলওয়ে বিভাগের সকল কাজকর্ম জনবল সংকটে ঢিলাঢালাভাবে চলছে।

সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস) কুদরত-ই-খোদা এ প্রতিবেদককে জানান শীর্ঘই রেলওয়ে কারখানায় নতুন জনবল নিয়োগ করা না হলে চরম দূভোর্গ পহাতে হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য