হোক না ক্যামেরার সামনে ঝাঁসির রানির অভিনয়। কঙ্গনা এমনই এক অভিনেত্রী, যাঁর বাস্তব আর অভিনয়ের মধ্যে থাকে অতি সূক্ষ্ম ব্যবধান। পর্দায় তিনি অত্যন্ত বলিষ্ঠ, শক্তিশালী এক অভিনেত্রী। হলিউডখ্যাত অ্যাকশন ডিরেক্টর নিক পাওয়েলের তত্ত্বাবধানে রামোজি ফিল্ম সিটিতে চলছিল শ্যুটিং। অসিযুদ্ধে কঙ্গনার প্রতিপক্ষ নীহা পা-্য। ছবির নাম, ‘মণিকর্ণিকা- ঝাঁসি কি রানি’।

হঠাৎই সামান্য অসাবধানে সময়ের আগেই অসি চালিয়ে দেন নীহা। ভুলক্রমে কঙ্গনার কপাল ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় ধারালো তলোয়ার। ফিনকি দিয়ে রক্ত ছোটে তাঁর কপাল বেয়ে। সঙ্গেসঙ্গে তাঁকে অ্যাপোলো হসপিটালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। রামোজি ফিল্ম সিটি শহর থেকে অনেকটাই দূরে। প্রায় আধঘণ্টা বিনা চিকিৎসায় থাকতে হয়েছে তাঁকে। ১৫ টি স্টিচ করা হয়েছে তাঁর কপালে।

আর একটু এদিক-ওদিক হলে হাড়েই বসে যেত সেই তলোয়ার। আগামি সপ্তাহে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে কঙ্গনাকে। কিন্তু এরইমধ্যে ধনুকভাঙা পণ করলেন কঙ্গনা। তিনি চালিয়ে যাবেন শুটিং ক্ষতের দাগ নিয়েই। না, প্রযোজকের অর্থ সাশ্রয়ের জন্যেই শুধু নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে আরও মহৎ উদ্দেশ্য। ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈয়ের একেবারে অন্দরে ঢুকে পড়েছেন কঙ্গনা! রানি বাস্তবে যে লড়াই করেছেন, তাতে কাটাছেড়া কিছু কম হয়নি।

আঘাতের পর আঘাত সহ্য করেই তিনি যুদ্ধ করেছেন। তাই কঙ্গনা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্ষতের দাগ নিয়েই শুটিং করবেন তিনি। বিশ্রাম নেবেন না। সিদ্ধান্তটা অবাক করা হলেও এই দাগই তাঁর শ্রদ্ধার্ঘ। ইতিহাসের সেই সাহসী নারীর প্রতি। এই দাগই সারা ছবিতে সাহসের প্রতীক হয়ে থাকবে। বললেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য