মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরে তিন দিনব্যাপী তাবলীগ জামাতের ইজতেমা আগামী ৩০ নবেম্বর শুরু হবে এবং ২ ডিসেম্বর আখেরী মুনাজাতের মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে। দিনাজপুর জেলার ১৩ উপজেলার তাবলীগ জামাতের সাথীদের নিয়ে এই ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।

দিনাজপুর বড়মাঠে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পূর্বপাশের অংশে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ইজতেমায় মুসল্লিদের জন্য প্যান্ডেল তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তাবলীগ জামাতের সাথী ও নির্মাণ শ্রমিকরা।

দিনাজপুর তাবলীগ জামাতের আমীর (জিম্মাদার) আলহাজ্ব মো. লতিফুর রহমান জানান, মানুষ কিভাবে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগীর দিকে রুজু হবে, মানুষের মাঝে হক তথা সঠিক পথ কবুল করার যোগ্যতা তৈরী হবে, আখেরাতের জিন্দেগী বা মৃত্যুর পরবর্তি জীবন কেমন হবে এবং কিভাবে মানুষ আখেরাতমূখী হবে এ সব বিষয়ে এই ইজতেমায় বয়ান (আলোচনা) করা হবে। মানুষকে দ্বীনের পথে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এই কাজ, যে কাজ আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলগন করেছেন।

আলহাজ্ব মো. লতিফুর রহমান আরো জানান, তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই ইজতেমায় ইন্দোনেশিয়া হতে আগত একটি জামাত অংশগ্রহণ করবে। কাকরাইলের মুরব্বিদের মধ্যে মাওঃ জোবায়ের হোসেন, মাওঃ মো. রবিউল হক, মাওঃ মো. মোশাররফ হোসেন ও মাওঃ মো. ফারুক লক্ষীপুরী আগত মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় তাবলীগ জামাতের মুরব্বিরা মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বয়ান করবেন।

তিনি জানান, যে বছর ঢাকার টঙ্গীতে দিনাজপুরের তাবলীগ জামাতের সার্থীরা যেতে পারবেন না, মূলত তাদের নিয়েই জেলা পর্যায়ে এই ইজতেমার আয়োজন করা হবে। আর সে কারণে এ বছর দিনাজপুরে তিন দিনব্যাপী এই ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে।

তিন দিনব্যাপী ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের জন্য দিনাজপুর বড়মাঠে প্যান্ডেল তৈরীর কাজ চলছে। আগামী ৩০ নভেম্বরের আগেই প্যান্ডেল তৈরীর কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছে ইজতেমা কর্তৃপক্ষ। প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লির জন্য এ প্যান্ডেল তৈরী করা হবে। তবে প্যান্ডেলের বাইরে আশপাশের এলাকায় ৩০ হাজারসহ প্রায় ৫০ হাজার মুসল্লি অবস্থান করতে পারবেন বলে জানান মুরব্বিরা।

ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের অজু-গোসলের পানি সরবরাহের জন্য ৩০টি টিউবওয়েল, একটি সাবমারসেবল পাম্প, ৩টি মটর স্থাপন করা হবে। এছাড়া নিরাপদ স্যানিটেশনের জন্য ৪শ’ টয়লেট তৈরা করা হয়েছে। বিদেশী মেহনান ও তাবলীগ জামাতের বৃদ্ধ সাথীদের জন্য মাঠের পশ্চিম পাশে খাস কামরা (বিশেষ কক্ষ) তৈরী করা হয়েছে। এই খাস কামরায় আগত বিদেশী মেহমান ও তাবলীগ জামাতের বৃদ্ধ সাথীরা থাকবেন বলে জানান মুরব্বিরা।

উল্লেখ্য, ইজতেমায় প্যান্ডেল তৈরী, টয়লেট নির্মাণ, নিরাপদ পানি সরবরাহের জন্য টিউবওয়েল স্থাপন, বিদ্যুৎ সংযোগসহ অন্যান্য সব ধরনের খরচ তাবলীগ জামাতের সার্থীরা নিজ উদ্যোগে করছেন। কারো নিকট থেকে ধরনের সহযোগিতা নিচ্ছেন না। একমাত্র আল্লাহকে রাজি-খুশি ও সওয়াবের আশায় সবাই স্বেচ্ছায় এসব কাজ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য