দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নদী ভাঙনের ফলে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে কয়েকটি গ্রাম। ইতি মধ্যে ওই গ্রাম গুলোর অনেকে বাড়ী ভাঙনের ফলে অন্যত্রে চলে গেছে। নদীর ভাঙনে বাড়ী ঘর হারিয়ে অনেকেই মানবেতর জীবন যাপন করছে। গ্রাম গুলো হলো উপজেলার বিনোদনগর ইউনিয়নের করতোয়া নদী ঘেষা ভোটারপাড়া,কাঁচদহ, উঃ কাঁচদহ, উঃ মাঝিপাড়া ও দঃ মাঝিপাড়া।

নদীর ওই ভাঙনে শুধু ওই গ্রাম গুলিই নয় ভবিষ্যতে ক্ষতির আশংকা রয়েছে সদ্য নির্মিত ডঃ ওয়াজেদ মিয়া সেতুরও।ক্ষতিগ্রস্থরা জানান করতোয়া নদীর প্রবাহ ছিল তাদের গ্রামের প্রায় ১ কিঃ মিঃ পূর্ব দিক দিয়ে। সেই প্রবাহ ভাঙতে ভাঙতে এখন কয়েক বছর ধরে গ্রাম পর্যন্ত ভাঙা শুরু হয়েছে। এতে করে অনেকেই বাড়ী-ঘর সহ জায়গা জমি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছে। নদী ভাঙনে বাড়ী-ঘর ছেড়ে যেতে হয়েছে ভোটারপাড়া গ্রামের শহিদুল ইসলাম, মুনছুর আলী, ইয়াকুব আলী সহ অনেককে।

ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে হুমকির মূখে রয়েছে ওই গ্রামের আজিজুল ইসলাম ও খলিলুর রহমান সহ অনেকে।বাড়ী ভেঙে গেছে উঃ মাঝিপাড়া গ্রামের মনি, নিপেন, শহিদুল, খট্টু,বকুল, বিকাশ সহ ২৫/৩০ জনের। ভাঙনের ফলে শত শত ঘরবাড়ী, হাজার হাজার বিঘা ফসলি জমি,স্কুল, মাদ্রাসা,মসজিদ,মন্দির সহ অনেক সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে।

বিনোদনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউ,পি সদস্য সানাউল হক জানান উত্তরে থেকে ঘৃনাই ও যমুনাশ্বরী নদী এসে ভোটারপাড়া এলাকায় করতোয়ায় মিলিত হয়ে পানির তীব্র ¯্রােতে ভাঙন হয়ে থাকে। গত কয়েক বছরে নদী ভাঙনে অনেকেই বাড়ী-ঘর ছাড়া হয়েছে। হারিয়েছে ফসলি জমি।

বিনোদনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন জানান প্রতি বছর নদী যে ভাবে গ্রাস করছে তাতে শুধু ওই গ্রাম গুলোই নয় নদীর গতি পরিবর্তন করতে না পারলে সদ্য নির্মিত ড. ওয়াজেদ মিয়া সেতুও ভবিষ্যতে হুমকির সম্ভাবনা রয়েছে। তার ভাষায় নদী পূর্বে যেদিক দিয়ে প্রবাহিত ছিল সেদিক দিকে প্রবাহের ব্যবস্থা করা হলে এ থেকে পরিত্রান পাওয়া যেতে পারে।

এর জন্য প্রায় ৫ কিঃ মিঃ নদী খনন করতে হবে। তিনি আরও জানান এ ব্যাপারে তারা পানি উন্নয়ন বোর্ডে আবেদনও করেছেন। জনস্বার্থে এলাকাবাসী বিষয়টির প্রতি এলাকার পুত্রবধূ প্রধানমন্ত্রী এবং তার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য