দিনাজপুর সংবাদাতাঃ দিনাজপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের দ্বারা ২টি বাস পোড়ানোর ঘটনায় সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-ছাত্র সংঘর্ষে আহত ৪ জনকে এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। কোন ধরনের সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভা।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় শহরের মহারাজা মোড়ে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একটি বাসকে সাইড না দেয়ায় যাত্রীবাহী বাসের হেলপার ও চালকের সাথে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়। এসময় উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন ছাত্র ও ২ জন শ্রমিক আহত হন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি ক্যাম্পাসে পৌছালে শ্রমিকদের হাতে ছাত্র পেটানোর ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ছাত্ররা ক্যাম্পাসের সামনে দিনাজপুর-রংপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে জড়ো হয়ে যাত্রীবাহী বাস তৃপ্তি পরিবহন ও শাহী পরিবহনে আগুন দিলে বাস ২টির ব্যাপক ক্ষতি হয়। পুলিশের সহায়তায় ছাত্রদের বাধা উপেক্ষা করে ফায়ার ব্রিগেডের সদস্যরা আগুন নেভান।

যাত্রীবাহী বাস পোড়ানোর ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার জেলার সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষনা করেছে জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন। অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘটের ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন জনসাধারণ।

মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রফিক ও সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, সামান্য ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ২টি বাস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে। তাদের হামলায় আহত ৮জন শ্রমিকের মধ্যে আফজাল ড্রাইভার ও বেলাল হোসেনকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাঁরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উস্কানিতে ছাত্ররা উত্তেজিত হয়ে বাসে আগুন দেয়। প্রক্টর খালিদ হোসেন ছাত্রদের জানান, একজন ছাত্রকে শ্রমিকেরা ধরে নিয়ে গেছে। তার কোন খোঁজ নেই। অথচ এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। প্রক্টরের উস্কানিতেই ছাত্ররা পুলিশের উপস্থিতিতে বাস দুটিতে আগুন দিয়েছে।

ফায়ার ব্রিগেডকে আগুন নেভাতে বাধা দেয়া হয়েছে। শ্রমিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এর আগেও ৫টি বাস পোড়ানো হয়। অথচ প্রতিশ্রুতি দেয়া সত্বেও কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হয়নি। শ্রমিক ও যাত্রীদের নিরাপত্তা বিধানসহ ক্ষতিগ্রস্ত বাসের জন্য উপর্যুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদানের ব্যাপারে লিখিত সিদ্ধান্ত হতে হবে। আমরা কোন মৌখিক সিদ্ধান্ত মেনে নেব না।

প্রক্টর ড. খালিদ হোসেন বলেন, অন্যায়ভাবে শ্রমিকেরা ছাত্রদের পেটালে স্বাভাবিকভাবে ছাত্রদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারা যেন কোন ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত না হয় সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। শ্রমিকদের হাতে আহত কম্পিউটার সায়েন্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২ ছাত্র নিবিড় ও সৌরভকে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম জানান, ছাত্র নামধারী কিছু দুস্কৃতিকারী বাসে আগুন দিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে শ্রমিক-ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় বৃহস্পতিবার পর্যন্ত কোন পক্ষই থানায় মামলা দায়ের করেনি।

জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম উদ্ভুত পরিস্থিতি নিরসনের লক্ষ্যে তাঁর সম্মেলন কক্ষে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বৈঠক করলেও কোন ধরনের সমঝোতা ছাড়াই সভা সমাপ্ত হয়। বৈঠকে পুলিশ সুপার মোঃ হামিদুল আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্ট্রার প্রফেসর ড. শফিউল আলম, ছাত্র পরামর্শ বিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক শাহাদৎ হোসেন খান, সহকারী প্রক্টর শহিদুল ইসলাম এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি জাহিদ হোসেন রতন, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম শেলু, মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ রফিক, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী, সহ-সভাপতি সাইফুর রাজ চৌধুরী, সহ-সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে জেলা প্রশাসক মীর খায়রুল আলম বলেন, ৩ দিনের মধ্যে ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিন্তু বাস মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ছাড়া কোন ধরনের সমঝোতা হবে না বলে ঘোষনা দিলে বৈঠক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য