নীলফামারীতে সরকারী কর্মকর্তা ছাড়াই একটি মাধ্যেমিক বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ার আইনী বৈধতা ও নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতাকে ঘিরে। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে জেলার ডোমার উপজেলা সদরের ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতন নামের একটি বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে।

জানা যায়, ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদটি অবসরজনিত কারনে শুন্য হয়। এরই প্রেক্ষিতে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ গত ২৩ শে আগষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ওই পদে ৯ জন আবেদনকারী আবেদন করে এবং যাচাই বাছাইকালে কোন আবেদন বাতিল করা হয়নি। যাদের আবেদন গ্রহন করা হয়েছে এদের মধ্যে ওমর ফারুক নামের একজন আবেদনকারীর সরকারী বিধি মোতাবেক আবেদনের যোগ্যতাবিধি অনুযায়ী বিএড ডিগ্রি ছিল না।

তিনি একই এলাকার একটি মাদ্রাসার শরীরচর্চা শিক্ষক হিসাবে কর্মরত এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী। বিধি মোতাবেক যা ওই পদে আবেদনের কোন যোগ্যতা নয়। আর আবেদন করলেও যাচাই বাছাইকালে বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু কমিটির পছন্দের প্রার্থী ওমর ফারুক নামের ওই প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার জন্য কমিটি সর্বাত্বক চেষ্টা চালায় এবং তার আবেদন বৈধ বলে ঘোষনা করে।

এরই জেরে দীর্ঘ এ সময়ে তাকে নিয়োগ দেয়ার জন্য দফায় দফায় নানা দেন দরবার চলতে থাকে। অবশেষে গত ২১ শে নভেম্বর পরীক্ষা কমিটির মিনিষ্ট্রি প্রতিনিধি উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতেই বিদ্যালয় চত্বরে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, পরীক্ষা গ্রহনের দিন দুপুর দেড় টা পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রে অবস্থান করেও ডোমার উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে পরীক্ষা কেন্দ্রে দেখা যায় নি।

ইতিমধ্যে পরীক্ষা গ্রহন শেষ করে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। নিয়োগ পরীক্ষায় মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা অনুপস্থিত থাকায় ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন প্রার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহন করেননি। বাকী ৬ জন পরীক্ষার্থীকে নিয়ে ওই সরকারী কর্মকর্তার অনপুস্থিতিতে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ একাই নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহন করে এবং বিপিএড ডিগ্রিধারী ওই প্রার্থীকে উত্তীর্ন প্রার্থী বলে ঘোষনা করে নিয়োগ প্রদান করে। সুত্রমতে, গত ২ দিন ধরে ডোমার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা বেগম ওই নিয়োগ পরীক্ষার কোন কাগজপত্রে স্বাক্ষর করেন নি।

তার স্বাক্ষর নেয়ার জন্য বিদ্যালয় কতৃপক্ষ নানা কসরত চালাচ্ছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। এ ব্যাপারে ডোমার বালিকা বিদ্যা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক রতন কুমার রায় সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মাধ্যেমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাকেরিনা বেগম প্রথমে অনুপস্থিত ছিলেন স্বীকার করে জানান, পরে গিয়ে খাতা দেখেছি ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়েছে বলে জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য