ইয়েমেনের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত হুদায়াহ ও সানা বিমানবন্দরে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। জাতিসংঘের আবেদনের পর দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা অবরোধ শিথিল করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে সরকার নিয়ন্ত্রিত সমুদ্র ও বিমানবন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিলো। তবে জাতিসংঘ জানায় দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি থাকা ইয়েমেনের নাগরিকদের জন্য ত্রাণ পৌঁছানোর ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত ছিলো না।

ইয়েমেনের আমদানির ৮০ শতাংশই থাকে খাবার। অবরোধ আরোপের আগে থেকেই খাদ্য সংকটে ভুগছিলো দেশটি।

সম্প্রতি ইয়েমেন থেকে সৌ্দি আরবের রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথি বিদ্রোহীরা। আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করলেও সৌদি সরকার অভিযোগ করে ইরানের সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়েই হামলা চালিয়েছে হুথিরা।

এরপর ইয়েমেনের সব বন্দরে অবরোধ আরোপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। তাদের যুক্তি ইরানের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করতেই তারা এই অবরোধ আরোপ করেছে। তাদের দাবি, ত্রাণের আড়ালে ইয়েমেনে অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাচার হচ্ছে।

তবে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।

বুধবার সৌদি জোট জানায় তারা জাতিসংঘের ত্রাণ সরবরাহ প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করে দেখেছে। তারা বোঝার চেষ্টা করেছে এর মাধ্যমে কোনোভাবে হুথিদের কাছে অস্ত্র পৌঁছানো সম্ভব কী না। এরপরই লোহিত সাগরের হুদায়তা বন্দর ও সানা বিমানবন্দর খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় তারা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ১২ টা থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা।

সৌদি জোট আরও জানায়, শিগগিরই ইয়েমেনি জনগণকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার একটি পরিকল্পনা প্রকাশ করবে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য