কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে আজ (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টার দিকে স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির কার্যালয়ে এ সমঝোতা সই হয়।

মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলরের দপ্তরের মন্ত্রী কাইয়ো থিন সোয়ে ও বাংলাদেশের সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। দু দেশের মধ্যে ১৯৯৮ সালের সীমানা নির্ধারণ চুক্তিতেও তারা অনুসমর্থন দেন। তবে চুক্তির শিরোনামে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়নি।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদ আলী বলেন, শিগগির রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার কাজ শুরু করবে মিয়ানমার। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন দ্বিতীয় ধাপের কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও বলেন, কাজটা শুরু করাই বড় কথা। কতদিন লাগবে তা এখনই নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না। কারণ রাখাইনে যেখান থেকে রোহিঙ্গারা পালিয়ে এসেছেন, তাদের বাড়িঘর সব জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে, সেগুলো আগে তৈরি করতে হবে।

রোহিঙ্গাদের ফেরতের ইস্যু ছাড়াও নাফ নদীর সীমানা রেখা বিনিময় বিষয়ক আরও একটি স্মারক সই হয়েছে বলে জানিয়েছেন মাহমুদ আলী।

সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে আজ সকাল ১০টায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি প্রায় ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন।

এর আগে ১৯৭৮ সালে দু’দেশ চুক্তি করেছিল। সেই চুক্তির অধীনে দুই লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা ছয় মাসের মধ্যে ফেরত গিয়েছিল। পরে ১৯৯২ সালে দু’দেশের মধ্যে আরেকটি সমঝোতা হয়, যার অধীনে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দুই লাখ ৩৬ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যায়।

গত ২৫ আগস্ট থেকে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নির্যাতনের শিকার হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এর আগে, প্রায় ৫ লাখ রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বসবাস করে আসছে। এই ঘটনাকে ‘জাতিগত নিধনের ধ্রুপদি উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য