এক সময় তাস ছিল জুয়া খেলার অন্যতম মাধ্যম। আর যারা তাস খেলত তারা লুকিয়ে গোপন কোন আস্তানায় জুয়ার আসর বসাতো। তবে এখন সময় পাল্টে গেছে। এখন প্রকশ্যে জুয়া খেলা চললেও কারো করার কিছু থাকেনা। গত কয়েক বছর থেকে আইপিল খেলা শুরুর সময় থেকে ক্রিকেট জুয়ায় আসক্ত হয়ে পরেছে তরুন,যুবকসহ অনেকেই। আর এবার বিপিএল খেলায় নীলফামারীর ডোমারের আনাচে কানাচে চলছে ক্রিকেট জুয়া। এলাকার মোড়ে মোড়ে আর গ্রামের বিভিন্ন হোটেল রোস্তোরাতে প্রকাশ্যে জলছে ক্রিকেট জুয়া। ডোমার উপজেলায় প্রতিদিন কোটি টাকার জুয়া হয় বলে জানাগেছে। বিভিন্ন লোকের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। ডোমার পৌর শহরের প্রায় ৭/৮টি পয়েন্টে বড় ধরনের ক্রিকেট জুয়া চলে।

খেলা শুরুর চার পাচ ঘন্টা আগে থেকেই ক্রিকেট জুয়ারীরা বিভিন্ন দলের পক্ষে মোটা অংকের বাজেটে জুয়া খেলে থাকেন। জয়-পরাজয়ের পরেও প্রথম ৬ ওভারে কোন দল কত রান করবে, কোন বলে ছয় বা চার হবে। খেলায় কোন দল জিতবে কোন খেলোয়ার ম্যান অবদ্যা মাচ হবে এসব নিয়ে প্রক্যাশে জুয়া চলে। তাছাড়া প্রতি বলে কতরান হবে এই নিয়ে টাকা হাতে নিয়েই চলছে জুয়া। শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে উঠতি বয়সের তরুন,যুবকদের সাথে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পরেছে বয়স্করাও। ক্রিকেট জুয়ারীদের ধরতে ডোমার থানা পুলিশ একাধিকবার বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করলেও থেমে নেই ক্রিকেট জুয়া।

শিক্ষক ব্রজেন্দ্রনাথ রায় বলেন, এক সময় মানুষ চুপিসারে জুয়া খেলত। আর এখন প্রকাশ্যে জুয়া খেলা হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে। এভাবে যুব সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। জেনেও না জানার ভান করে থাকতে হয়। সাবেক ফুটবল খেলোয়ার কল্লোল বলেন, শুধু ক্রিকেট জুয়া নয়, ফুটবল এবং পাড়া মহল্লার খেলাতেও জুয়া ছেয়ে গেছে। ক্রিকেট জুয়ায় আসক্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ডোমারের বিভিন্ন মানুষ সর্বশান্ত হয়ে পথে বসেছে। বিভিন্ন চাকুরীজীবি তাদের বেতনের টাকা তুলে হেরে পথে বসেছেন।

অনেকেই বাড়ীর জিনিসপত্র চুড়ি করে বিক্রি করছে। ডাঃ তুহিন ইবনে হাদী বলেন, আগে যারা তাস খেলত তাদের মনে এক রকমের ভয় ছিল। কখন পুলিশ আসবে,কেউ দেখলো নাকি জুয়ারীদের মনে ভয় ছিল। আর এখন জুয়ারীদের আর ভয়ে থাকতে হয় না। মোবাইলের মাধ্যমে তারা বাজী ধরে জুয়া খেলছে।সাবেক খেলোয়াররা জানিয়েছেন, এখনেই যদি ক্রিকেট জুয়ার লাগাম টানা না যায় তবে এক সময় তা প্রকট আকার ধারন করবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য