আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট থেকে: লালমনিরহাটে জেমি খাতুন নামে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি, জেমি আত্মহত্যা করেছে। স্থানীয় এক কিশোর তাকে উত্যক্ত করত। পরে সেই কিশোর ফেসবুকে জেমির ছবি আপলোড করে। এর পরই সে গলায় ওড়না পেচিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে পড়ে। জেমি জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার দক্ষিণ গড্ডিমারী গ্রামের জহরুল আলীর মেয়ে। সে স্থানীয় শাহ গরিবুল্লাহ বালিকা বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্রী ছিলো। বুধবার সকালে জেমির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

জেমির মা নুরবানু বেগম জানান, ‘আরিফ আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করত। জেমিকে অন্যত্রে বিয়ে দেয়ার সংবাদ শুনে সে বরের পরিবারকেও বিয়ে করতে নিষেধ করে। জেমির ছবিও ফেসবুকে আপলোড করেছে। এ কারণে আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।’পুলিশ ও স্থানীয় কিছু বাসিন্দার ভাষ্য, জেমির সঙ্গে আরিফ নামের এক কিশোরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি বুঝতে পেরে জেমিকে বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুঁজতে থাকে তার পরিবার। এর জের ধরে মঙ্গলবার ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে জেমির একটি ছবি আপলোড দেয় আরিফ। ফেসবুকে ছবি দেখে জেমির বড় ভাই তাকে গালমন্দ করেন। এর পর দাদীর ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে জেমি।

পরে তাকে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে জেমির মরদেহ হাতীবান্ধা থানায় নেয় পুলিশ। বুধবার সকালে মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়। হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাসান সরদার জানান, এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগে জেমির বাবা একটি মামলা করেছেন। এতে আরাফাত হোসেন আরিফসহ দুইজনকে আসামী করা হয়েছে। আরিফকে গ্রেফতার করে জেল-হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য