আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় ২০১৭ সালের চলতি প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও ভেলকিবাজির অভিযোগ উঠেছে।

অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীর ডিআরভূক্ত তালিকায় ৫ম শ্রেণীর স্থলে উচ্চ শ্রেণীর নিম্ন শ্রেণী। এমনকি মাদ্রাসায় পড়–য়া ও বিবাহিত সন্তানের জননীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছে। এরা প্রকৃত পক্ষে বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী কিনা, পড়াশুনা করে কিনা, অন্য ছাত্র-ছাত্রীর প্রোক্সি দিচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখার কেউ নেই। নেই প্রতিকারের কোন ব্যবস্থাও।

২০১৭ সালের চলতি সমাপনী পরীক্ষায় এ রকম অবস্থা চলছে উপজেলার সবক’টি পরীক্ষা কেন্দ্রে। এর মধ্যে উপজেলার কিশোরগাড়ী ক্লাষ্টারের পরীক্ষা কেন্দ্রে এসব শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। কিশোরগাড়ী ক্লাষ্টারের আওতাধীন আন্দুয়া ২নং নন রেজি. প্রাথমিক বিদ্যালয় যার বিদ্যালয় কোড/ক্রম নং-০৩৯, ধরণ কোড-১০। ওই বিদ্যালয় ৫ম শ্রেণীতে অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রী ৫ জন দেখানো হলেও এরা সেখানে পড়াশুনা করেনা।

তবে রোল নং-৬১২ জিহাদ বাবু এস.এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। রোল নং-৬১৩ জিহাদ বাবু শিমুলিয়া ২নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত। রোল নং-৬১৪ আহসান কবির বেংগুলিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়নরত ছাত্র। রোল নং-৬১৫ লুসা আকতার পঞ্চম শ্রেণী পাস বিবাহিত ১ সন্তানের জননী। রোল নং- ৬১৬ নাছরিন আকতার বঙ্গবন্ধু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণীতে অধ্যয়নরত বটে। আন্দুয়া ২নং নন রেজি. বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী নয়। তবে চলতি সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য তালিকাভূক্ত দেখিয়েছে।

যা প্রতারণা ও জালিয়াতির শামিল। পক্ষান্তরে উক্ত বিদ্যালয়ের জমি সংক্রান্ত বৈধ্যতা নিয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি মোকদ্দমা বিচারাধীন আছে। তদুপরি উপজেলা ভূমি অফিস ও শিক্ষা বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক অভিযোগ দাখিল হলেও তার কোন তদন্ত-প্রতিকারের উদ্যোগের নেই। সূত্রের মতে এই ভূয়া বিদ্যালয়ের অনৈতিক কার্যক্রম কোন অদৃশ্য ব্যক্তির ক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থী সংক্রান্ত বিষয়টি কিশোরগাড়ী ক্লাষ্টারের কেন্দ্র সচিব আব্দুস সোবহানকে অবগত করলে তিনি জানান, যেসব শিক্ষার্থী ডিআর ভূক্ত হয়েছে তারা ১ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত বয়স হলেও পরীক্ষা দিতে পারবে। তবে এসব শিক্ষার্থী ডিআর ভূক্ত হওয়ার বিষয়ে তিনি উপজেলা শিক্ষা অফিসকে দায়ী করেন।

এ সংক্রান্ত বিষয় গুলো উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহিশ শাফীকে জানালে তিনি বলেন, এ ধরনের কোন অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে সমাপনী পরীক্ষা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য