পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টানতে এবার চীন ও উত্তর কোরিয়ার ১৩টি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে এই নিষেধাজ্ঞার কথা জানানো হয় বলে খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

এই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো বাণিজ্যিক সম্পর্কের মাধ্যমে পিয়ংইয়ংয়ের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্য করছিল বলে অভিযোগ মার্কিন কর্মকর্তাদের।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে ‘সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের’ তালিকায় ফিরিয়ে আনার পরদিন ট্রেজারি বিভাগ চীনা ও উত্তর কোরীয় কোম্পানিগুলোর ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দিল।

তালিকায় ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দেওয়ার সময়ই ট্রাম্প এ নিষেধাজ্ঞার আভাস দিয়েছিলেন।

পিয়ংইয়ংয়ের পারমাণবিক উচ্চাভিলাষ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ট্রাম্প প্রশাসন যে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ব্যবসায়িক লেনদেনে আঘাত হানার কৌশল নিয়েছে, নতুন এ নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে তা স্পষ্ট হল।

নতুন এ নিষেধাজ্ঞায় চীনের তিনটি কোম্পানিকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যাদের ৭৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি লেনদেন আছে বলে দাবি ট্রেজারি কর্তৃপক্ষের। এগুলো হল- ডেনডং কেহুয়া ইকোনমি অ্যান্ড ট্রেড, ডেনডং জিয়ানঘে ট্রেডিং ও ডেনডং হোংডা ট্রেড কোম্পানি।

পর্যবেক্ষকরা জানান, উত্তর কোরীয় সীমান্তের ডেনডং শহরে চীনের অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সীমিত থাকায় ওই এলাকার কোম্পানিগুলো সহজেই পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য করে লাভবান হতে পারছে।

নতুন নিষেধাজ্ঞায় শহরটির আরেক ব্যবসায়ী সান সিডং ও তার কোম্পানি ডেনডং ডংজুয়ান ইন্ড্রাস্টিয়ালকেও কালো তালিকাভুক্ত করেছে ট্রেজারি কর্তৃপক্ষ। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিং ট্যাঙ্ক সিফোরএডিএসের জুন মাসের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করে চীনের এমন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সান সিডংয়ের কোম্পানি অন্যতম।

মঙ্গলবারের নিষেধাজ্ঞায় উত্তর কোরিয়ার শ্রমশক্তি রপ্তানিকারক বেশ কটি প্রতিষ্ঠানও আছে, যারা রাশিয়া, পোল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও চীনে শ্রমিক পাঠায়।

বিশ্লেষকদের ধারণা, নতুন এ নিষেধাজ্ঞা উত্তর কোরিয়ার দৈনন্দিন জীবনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

“সাধারণ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কোম্পানিগুলোর ওপর এবারের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তাদের চাপে রাখার এটাই যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ,” বলেন সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির নিষেধাজ্ঞা বিশেষজ্ঞ পিটার হারেল।

চীনের কোম্পানির ওপর এ নিষেধাজ্ঞা দেশটির সঙ্গে সম্পর্কে বিরূপ প্রভাব ফেলবে না বলেও বিশ্বাস ওয়াশিংটনের।

“এটা সব তছনছ করে দেবে বলে মনে হয় না। সমগ্র বিশ্ব এখন উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে একমত। চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক চমৎকার, সেটার কোনো পরিবর্তন হবে না,” বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিদার নয়ের্ত।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য