রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের ৫গ্রামে দেড়শতাধিক বাড়ি ভিটাসহ প্রায় ১০০ হেক্টর ফসলী জমি বন্যা পরবর্তি ৭দিনের মধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নদী ভাঙ্গন এলাকা এখনও কোন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেনি এবং নদী ভাঙ্গন রোধে কোন ব্যবস্থা করা হয়নি। ফলে আতংকে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তি মানুষেরা।

সরেজমিনে বালাপাড়া ও টেপামধুপুর ইউনিয়নের নিজপাড়া ও তালুকশাহবাজ, হরিচরনশর্মা, চরগনাই, বিশ্বনাথ, হয়তখাঁ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় শতাধিক বাড়ি ও ১শ হেক্টর ফসলি জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বালাপাড়া ইউনিয়নে নদী গর্ভে বাড়ি বিলীন হয়েছে যাদের তারা হলেন নিপেন, ভবেশ, রবি, দিনেশ, সুশিল মেকার, বেলেশ্বর, টুরু ঘাটিয়াল, দিনেশ, দিলিপ, ধনেশ্বর, খগেন, লংকে, মিলন, মংলু, অর্জুন, ইন্দ্র, কাজল, গোলাপ ,নিতাই, হরকান্ত, বলটু, মন্ডল, ভুষন, সুমন, সচিন, প্রেমেশ্বর, মংলু চন্দ্র, সুবল, গোপাল, জিতেন, বিরেন্দ্র, বাতেন, কালাম, ফয়েজ উদ্দিন, বয়েজ উদ্দিন, সোবহান, আলতাফ, মহু, আলমগির, আলামিন, শাহাদৎ, নওশাদ চকিদার, মহুবর, মমিনুল, মোখলেছ, মোজা, নুরল, মোহাম্মদ, আঃ লতিফ, আমজাদ, আয়নাল, রবি খলিফা, আশুরাম, জিবধন, হরিপদ, মহেশ, খগেন, পুষনা, পুষ্প, শুলটু, নরেশ,দুলাল সহ আরও অনেকে। টেপামধুপুর ইউনিয়নের সাইফুল, জবেদ আলী, জহুরুল, আজিরউদ্দিন,রহিম,মিজানুর,আজু,হামিদা,মইদুল,বাদশা,হালিম,নুরুজ্জামান,অহিদুল,আম্বার,লালমিরেজাউল, মাহাবুর, মাসুম, শফি আলম, ইউসুব, মালেক, জশর উদ্দিন, আম্বার আলী, জহুরুল, মালেক, সোবাহান, আজুদ্দিন, আফজাল, বাদশা, বাবুল্লাহ, টুটুল, হালিম, নুরুল হক সহ শতাধিক।

বালাপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান তার এলাকায় প্রায় শতাধিক বাড়ি নদী গর্ভে বিলিন হয়েগেছে, আমারা তালিকা তৈরী করছি। টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান তার এলাকায় একশ উপরে বাড়ি-ঘর ও ফসলী জমি নদী ভর্গে বিলীন হয়েগেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরী করা হচ্ছে।

নদী ভাঙ্গনের শিকার টুরু ঘাটিয়াল জানান তার বাড়ি সহ ২৭দোন জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে সেই সাথে নদীপারের শতশত মানুষের বাড়ি জমি নদী গর্ভে গেলেও তাদের কেউ খোজ পর্যন্ত নেয় নি। নিপেন জানান ইতি মধ্যে তিস্তা নদী ভাঙ্গনে সুভাঘাট নামের একটি গ্রাম কাউনিয়ার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেলেও নদী ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করায় আরও প্রায় ১১টি গ্রাম হুমকির মধ্যে রয়েছে। নদী ভাঙ্গন রোধে এলাকার মানুষ তিস্তা সড়ক সেতু থেকে দুই কিলোমিটার পর্যন্ত গার্ড ব্যাঙ্ক নির্মানের জন্য সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা টিপু মুন্শি এমপি কে বহুবার আবেদন নিবেদন, মানব বন্ধন করেও কোন কাজ হয়নি। নদী ভাঙ্গন রোধে এখনই ব্যবস্থা গ্রহন না করলে উপজেলার ১১টি গ্রাম তিস্তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাতে পারে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য