প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত পীরগঞ্জের করতোয়া নদীর উপর প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ টি সেতু নির্মানের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ওই নদীর জয়ন্তীপুর ও ন্যুনদহ ঘাটে সেতু ২টি নির্মানের খবর পেয়ে আনন্দে ভাসছে পীরগঞ্জবাসী। প্রায় ৪ বছর আগে প্রধানমন্ত্রী পীরগঞ্জে এক বিশাল জনসভায় ওই সেতু নির্মানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর আগে কাঁচদহ ঘাটে একটি সেতু নির্মিত হয়েছে। জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা এবং দিনাজপুরের উপজেলাগুলোর মধ্যকার সড়কপথে দুরত্ব কমাতে করতোয়া নদীর উপর ৩টি সেতু নির্মান এবং নদীটির গতিপথ ঠিক রাখতে লাখো মানুষ জন্মের পর থেকেই দাবি করে আসছেন।

রংপুর ও দিনাজপুর জেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া করতোয়া নদীটি প্রতিবছরই বন্যায় ভেঙ্গে গতিপথ পরিবর্তন করায় রংপুর-দিনাজপুরের অসংখ্য গ্রাম নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পাশাপাশি রংপুরের পীরগঞ্জ, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ, ঘোড়াঘাট এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর উপজেলার মধ্যেকার সড়কপথে যোগাযোগ রক্ষায় এলাকাবাসী পীরগঞ্জের টুকুরিয়া ইউনিয়নের কাঁচদহ, জয়ন্তীপুর ঘাট ও চতরা ইউনিয়নের নুনদহ ঘাটে সেতু নির্মানের দাবি করে আসছে। বিগত ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পীরগঞ্জের তরফ মৌজা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক জনসভায় জনতার দাবির প্রেক্ষিতে করতোয়া নদীর জয়ন্তীপুর ঘাটে একটি সেতু নির্মানের প্রতিশ্রুতি দেন।

এরপর পীরগঞ্জ (গোপীনাথপুর)-জয়ন্তীপুর ঘাট-বিরামপুর সড়কের ২য় কিলোমিটারে সেতুটি নির্মানের লক্ষ্যে সেতুটির স্থান ‘জয়ন্তীপুরঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় ডিজিটাল টপোগ্রাফিক্যাল সার্ভে’ করে রিপোর্টে বলা হয়, সেতুটি নির্মিত হলে পীরগঞ্জের সাথে নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর উপজেলাসহ হিলি, জয়পুরহাট এবং গোবিন্দগঞ্জ-বিরামপুর-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে যোগাযোগ সহজতর হবে। অপরদিকে গত বছরের ২ জানুয়ারী পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক এপিএস-১ জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল এর কাছে এলাকাবাসী নুনদহ ঘাটে একটি সেতুর দাবি করেন।

ওই সময় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সেতুটি নির্মানের পদক্ষেপ নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি। জানা গেছে, এলজিইডি কর্তৃপক্ষ করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে ৩’শ ১ মিটার ও জয়ন্তীপুর ঘাটে ২’শ ৯৪ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মানে প্রায় ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে একই প্যাকেজে টেন্ডার আহ্বান করেছে। ঢাকা এলজিইডি ভবনের সেতু বিভাগের প্রকৌশলী আলাহ হাফিজকে ওই প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এলজিইডির রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতার হোসেন জানান, সেতু নির্মানের জন্য পত্রিকার মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। প্রকল্পটির পরিচালক আলাহ হাফিজ বলেন, প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দে একই প্যাকেজে পীরগঞ্জে করতোয়া নদীর উপর ২টি সেতু নির্মানের প্রক্রিয়া চলছে।

এলাকাবাসী জানাান,নুনদহ ঘাটে সেতু নির্মিত হলে অনগ্রসরমান এই এলাকায় ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পের দ্বার উন্মাচন হবে। একই কথা বলেন, টুকুরিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শাহীন। সেতু নির্মানের পদক্ষেপে আনন্দের বন্যা বইছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের সৈয়দপুর, মহারাজপুর, মাহমুদপুর গ্রাম এবং রংপুরের হাজারো মানুষ জয়ন্তীপুর ও ন্যুনদহ ঘাট দিয়ে যাতায়াত করে আসছে। ওই ঘাটে শুকনো মওসুমে প্রায় দেড়’শ থেকে ২’শ মিটার করে বাঁশের সাঁকো আর বর্ষা মওসুমে নদীর পানি বেশী হয়ে দুরত্ব বেড়ে গেলে স্যালোচালিত নৌকায় সাইকেল, মোটর সাইকেল, রিক্সা-ভ্যানযোগে মালামালসহ হাজারো মানুষ জন্মের পর থেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হয়ে আসছে।

যোগাযোগের অভাবে ওই এলাকার শিক্ষার্থীরা ভাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে এবং সাধারন মানুষ সময় মতো আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতায় ওই এলাকা অনগ্রসর রয়েছে। উল্লেখ্য,বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে প্রায় ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদীর কাঁচদহ ঘাটে ‘ড. ওয়াজেদ মিয়া সেতু’ নির্মান সম্পন্নের পর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য