সংখ্যালঘু সরকার গঠনের চেয়ে নতুন নির্বাচনে যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন বলে জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল।

নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর একটি জোট সরকার গঠনের আলোচনা প্রায় চূড়ান্তু পর্যায়ে এসে ভেস্তে যাওয়ায় জার্মানিতে গভীর রাজনৈতিক সঙ্কট তৈরি হয়েছে।

নতুন সরকার গঠনের জন্য প্রায় চার সপ্তাহ ধরে আলোচনা চালিয়ে আসছিল মের্কেলের নেতৃত্বাধীন সিডিইউ-সিএসইউ জোট, পিডিএফ ও গ্রিন পার্টি। কিন্তু রোববার সন্ধ্যায় নতুন জোট সরকার গঠনের আলোচনা থেকে সরে যায় উদারপন্থি পিডিএফ পার্টি, এতে আলোচনাটি ভেস্তে যায় বলে খবর বিবিসির।

এ পরিস্থিতিতে হয় গ্রিন পার্টিকে নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন কিংবা নতুন নির্বাচন, এই দুই বিকল্পের সামনে পড়েছেন গত ১২ বছর ধরে জার্মানির চ্যান্সেলরের দায়িত্ব পালন করা মের্কেল। এই দুটির মধ্যে তিনি নতুন নির্বাচনই ‘পছন্দ করবেন’ বলে জানিয়েছেন।

সরকার গঠনের আলোচনা ভেস্তে যাওয়া সত্বেও তিনি পদত্যাগের কোনো কারণ দেখছেন না বলে জানালেও এই রাজনৈতিক সঙ্কটকে তার চ্যান্সেলল জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

সোমবার দেশের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক ভাল্টার স্টাইনমায়ারের সঙ্গে বৈঠক করার পর মের্কেল জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সরকারের চ্যান্সেলর হওয়ার পরিকল্পনা নেই তার।

৬৩ বছর বয়সী এ নেত্রী এআরডি টেলিভিশনকে বলেছেন, “নতুন নির্বাচনই উত্তম পথ, এই আমার মত।”

মের্কেলের দলের কয়েকজন নেতা নির্বাচনী ফলাফলে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সোশ্যাল ডেমোক্রেট (এসপিডি) দলের সঙ্গে মিলে জোরদার জোট গঠনের আশায় আছেন, যদিও এ ধরনের সম্ভাবনার কথা বারবার উড়িয়ে দিয়েছে এসপিডি।

তার দলও ‘নতুন নির্বাচনের বিষয়ে ভীত নয়’ বলে সোমবার মন্তব্য করেছেন এসপিডির নেতা মার্টিন শুলৎস।

রাজনৈতিক দলের নেতারা নতুন নির্বাচন নিয়ে কথা বললেও দুই মাসেরও কম সময় আগে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই পরিস্থিতি সামল দিতে চান প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার। যদিও পরিস্থিতিকে ‘নজিরবিহীন’ বলে আখ্যায়িত করেছে তিনি, তারপরও জার্মানির ‘ভালোর জন্য’ রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য