কাউনিয়ার পলি রানী পাঁ দিয়ে লিখেই পিএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে কাউনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে।

বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (শারিরীক প্রতিবন্ধি) হয়ে জন্ম গ্রহন করেও ঘরে বসে থেকে পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চায় না পলী রানী (১২)। বাড়ি থেকে কষ্ট করে প্রায় ২ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে প্রতিদিন অন্য শিশুদের মতো সেও স্কুলে যায়। সে শারিরীক অক্ষমতা কে হার মানিয়ে গদাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া লেখা করে এবাওে পিএসসি পরক্ষা দিচ্ছে।

সরেজমিনে কাউনিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে গিয়ে দেখা ও কথা হয় পলী রানীর সাথে। পরীক্ষা শেষে সে জানায় তার দুই হাত ও দুই পা-ই অচল। জন্ম গত ভাবেই তার এ অবস্থা। বাড়িতে বড় ভাই বোনেরা যখন পড়া লেখা করে এবং স্কুলে যায় তখন তারও স্কুলে যাওয়ার ইচ্ছে হতো। বাড়িতে সে প্রথমে মায়ের সাহায্যে পা দিয়ে কলম ধরতে শেখে এবং আসতে আসতে লিখতে শিখে। একদিন মাকে বলে স্কুলে যাওয়ার কথা।

এরপর বাবা তাকে স্কুলে ভর্তি করে দেয়। পা দিয়ে লিখে সে প্রথম শ্রেণী পাশ করে সকলকে তাক লাগিয়ে দেয়। অনেকে বলেছে এটা অসম্ভব সে সেই অসম্ভব কে জয় করে দেখিয়েছে পলি।

তার বাড়ি নিজপাড়া গ্রামে। পিতা মনরঞ্জন চন্দ্র মারা যায় পলি রানী যখন ক্লাস টু’য়ে পড়ে। মা ঝুপালী রানী এখন তার শেষ ভরসা। তাদের ৩ ভাই বোনের মধ্যে সে সব ছোট সন্তান। স্কুলের শিক্ষক শিক্ষিকা ও ছাত্র ছাত্রীরা সবাই তার সাথে ভাল আচরণ করে। তার ২ ভাই পড়া লিখা করে। মা একা কিছু কৃষি জমি চাষাবাদ করে। তাই দিয়ে তাদেও সংসার চলে। তাদের পড়া লেখার খরচ মায়ের পক্ষে চালানই কষ্ট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সে নিজে খেতেও পারে না, মা খাইয়ে না দিলে তাকে না খেয়ে থাকতে হয়। পলী জানায় পরিবার ও সমাজের বোঝা না হয়ে সে প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চায়।

মাঝে মাঝে নিজের শারিরীক অক্ষমতা মনে কষ্ট লাগে কিন্তু স্কুলে গেলে সব ভুলে যাই। সে জানায় আমি পড়া শুনা করে দেশের জন্য কিছু করতে ও বাবার ইচ্ছে ও মায়ের মুখে হাসি ফুটাতে চাই।

ইচ্ছে থাকলে অনেককিছু করা সম্ভব এমনই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পলী রানী। তার স্বপ্ন পুরনে বাধাঁ এখন অর্থের অভাব। সমাজের বৃত্তবানরাই পারে তার স্বপ্ন পুরনে সহায়তা করতে। কাউনিয়ায় হাত ও পা এর অক্ষমতা সত্বেও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে পলী রানী।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য