তিন মাস অতিবাহিত হলেও দিনাজপুরের খানসামায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার করা হয়নি। তিন মাস থেকে পুকুরের পানিতে ভাসছে বন্যায় উপড়ে পড়া বিদ্যুতের খুটি। বিদ্যুতের লাইনটি সংস্কার না করায় বন্ধ রয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের একটি গভীর নলকুপ। ফলে সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রায় ১৫০ একরেরও বেশী ফসলী জমি।

এখনও বিদ্যুৎ লাইনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওই এলাকার মানুষের।

মারগাঁও গ্রামের চাষী আকতার হোসেনসহ সুবিধা বঞ্চিতরা জানায়, চলতি বছর ভয়াবহ বন্যায় খানসামা উপজেলার পশ্চিম গোয়ালডিহি গভীর নলকূপের প্রায় ১২শ ফিট বৈদ্যুতিক লাইনের মাঝখানে একটি খুঁটি উপড়ে যায়। খুঁটিটি উত্তমপাড়া গ্রামের ছকিউদ্দিন মেম্বারের পুকুরে বৈদ্যুতিক তারসহ পানিতে ভাসছে। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ছিঁড়ে যাওয়া তারগুলো মোড়লের ডাঙ্গা নামক স্থানে রাস্তার ধারে ইউকেলিপটাস গাছের সাথে পেঁচানো রয়েছে।

গোয়ালডিহি ও ভাবকী ইউপির বেশ কিছু গ্রামের চাষিরা পশ্চিম গোয়ালডিহি গভীর নলকূপের আওতায় ফসল চাষ করে আসছে। কিন্তু ওই নলকূপের বৈদ্যুতিক লাইন সংযোগ নিয়ে ভীষণ চিন্তায় রয়েছেন।

লাইন সংস্কার এবং সেচ প্রসঙ্গে নলকূপের অপারেটর কাওছার আলী বলেন, বন্যার পর ক্ষতিগ্রস্থ লাইন সংস্কারের বিষয়টি উপজেলা বরেন্দ্র কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। চলতি বছর ২৫ একর জমিতে বোরো ধান, ৫০ একর রসুন, ৭০ একর ভুট্টা এবং অন্যান্য ফসল ১০ একর জমিতে চাষ করার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান এই গভীর নলকূপ অপারেটর।

এদিকে দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর রাণীরবন্দর আঞ্চলিক অফিসের ডিজিএম আশরাফুল হক জানান, বিদ্যুৎ লাইনের খুটি ভেঙ্গে পড়ার বিষয়টি তদন্ত করে জেলা পর্যায়ে জানানো হয়েছে। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ লাইন সংস্কার করে তাহলে আমরা সংযোগ দিব। আর সিদ্ধান্ত হয় যে, পল্লী বিদ্যুত সমিতি সংস্কার করে সংযোগ দিবে তবে আমরা লাইনটিকে শিঘ্রই সচল করে দিব।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য