দিনাজপুরে জেএমবি’র সুরা সদস্য ও সামরিক কমান্ডার আনোয়ার আলম ওরফে নামজুল ওরফে ময়নুল ওরফে খোকা ওরফে তুহিন ওরফে ভাগ্নে শহীদ (৩২) এর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত হত্যা মামলায় বিচারক আগামী ৫ জানুয়ারী অপর ৩ স্বাক্ষীকে হাজির করতে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর আদেশ প্রদান করেছে। এয়াড়া ২ জন স্বাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, রবিবার দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক মোঃ শফির হোসেন হায়দার এর আদালতে চাঞ্চল্যকর আল-আমীন বীমা এন্ড ইসলামিক ইন্সুরেন্সের আঞ্চলিক কর্মকর্তা মোস্তাকিম বিল¬্যা হত্যা মামলার বিচারের জন্য দিন ধার্য্য ছিল। মামলার অন্যতম আসামী জেএমবি’র সুরা সদস্য ও সামরিক কমান্ডার আনোয়ার আলম ওরফে নামজুল ওরফে ময়নুল ওরফে খোকা ওরফে তুহিন ওরফে ভাগ্নে শহীদ (৩২)কে পুলিশের কড়া প্রহরায় দুপুরে আদালতে হাজির করা হয়।

দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডঃ মোঃ আজিজুর রহমান জানান, এই মামলার ২ জন স্বাক্ষী নিহত মোস্তাকিম বিল্লার মা ফাতেমা খাতুন (৬৫) ও তার সৎ মা নুর জাহান বানু (৫০) এর স্বাক্ষী দুপুর ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত বিচারক গ্রহণ করেন। আসামী পক্ষ থেকে সরকারী খরচে নিয়োজিত এ্যাডঃ মোঃ খলিলুর রহমান ওই ২ স্বাক্ষীকে জেরা করেছেন।

বিচারক আগামী ৫ জানুয়ারী মামলার চার্জশীটের তালিকাভুক্ত সাক্ষী সুলতানা রাজিয়া, কামরুজ্জামান ও আব্দুর রাজ্জাককে আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য দেয়ার জন্য গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। এর আগে গত ধার্য তারিখে মামলার এজাহারকারী নিহত মোস্তাকিম বিল্লার মামা আব্দুল্লাহ মিয়া আদালতে হাজির হয়ে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন। বিকেলে কড়া পুলিশ প্রহরায় এই শীর্ষ জঙ্গীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। সূত্রটি জানায়, ভাগ্নে শহীদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলায় হত্যা, নাশকতা, অস্ত্র বিস্ফোরক ও জঙ্গীর সংক্রান্ত ঘটনায় ১৪টি মামলার তদন্ত ও বিচারাধীন রয়েছে।

এই মামলার অপর আসামী ভাগ্নে শহীদের স্ত্রী ও শীর্ষ মহিলা জঙ্গী বদরুন্নাহার লিমুকে গ্রেফতার করতে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে দেশের সকল থানায় হুলিয়া ও গ্রেফতারী পরোয়ানা কার্যকর করতে বিচারক তাগিদের আদেশ দেন। শীর্ষ মহিলা জঙ্গী বদরুন্নাহার লিমু স্থান ও ঠিকানা পরিবর্তন করে পুলিশের গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে রয়েছে। বদরুন্নাহার লিমু পলাতক থাকায় তার অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ চলছে।

জানা যায়, দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সগুনখোলা গ্রামের আব্দুস সামাদ লাহেড়ীর কন্যা বদরুন্নাহার হিমু দিনাজপুর সরকারী কলেজে লেখাপড়া করত। গত ২০০৮ সালের জুন মাসে জেএমবি’র সুরা সদস্য আনোয়ার আলম ওরফে খোকা ওরফে নাজমুল ওরফে তুহিন ওরফে ময়নুল ওরফে ভাগ্নে শহীদের সাথে পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরেই দুজনের মধ্যে বিয়ে এবং স্বামী-স্ত্রী দু’জনই নিষিদ্ধ ঘোষিত ইসলামী জঙ্গি সংগঠন জেএমবি’র কর্মকান্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ে। লিমুর বড় ভাই নিহত মোস্তাকিম বিল্য¬াকে জেএমবি’র কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য সাড়ে ৩ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছিল।

ওই টাকা জেএমবি’র কর্মকান্ডে প্রদান না করে মোস্তাকিম বিল¬াহ আত্মসাতের পরিকল্পনা করায় গত ২০০৯ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিরামপুর উপজেলার দুর্গাপুর নামক স্থানে পাকা রাস্তার পাশে আসামীরা তাকে গুলি করে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের মামা মোঃ আব্দুল¬াহ বাদী হয়ে বিরামপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করলে পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে আদালতে চার্জশীট পেশ করলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচার কাজ শুরু হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য