দিনাজপুরের পার্বতীপুর বড়পুকুরিয়া দেশের উত্তরাঞ্চলের একমাত্র কয়লা খনি, দ্রুতগতিতে চলতেছে সম্প্রসারণ সমীক্ষার কাজ।

উৎপাদন করে আসছে লাখ লাখ মেট্রিক টন কয়লা। বড়পুকুরিয়া কয়লা দিয়ে চলছে ২৫০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র।তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা ভিত্তিক নতুন আরেকটি ২৭৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র চলছে।

৫২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালাতে লক্ষ লক্ষ টন কয়লা প্রয়োজন আছে। সেকারণে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর ও দক্ষিণপাট সম্প্রসারন সমীক্ষার কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। কয়লা উৎপাদন করার লক্ষ্যে উত্তর ও দক্ষিণ পাটে অনুসন্ধান সমীক্ষার কাজ করছে জন্টি বয়েড, মজুমদার এন্টারপ্রাইজ, এম.এ.পি.এল ও বি.জি.পি, নামক কয়েকটি কোম্পানী।

বি.জি.পি নামের চায়না কোম্পানীর থ্রিডি সিসমিক সার্ভের কাজ করছে। এ পর্যন্ত ৫০ শতাংশ কাজ তারা সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন বি.জি.পি’র ম্যানেজার মি. জ্যাক। খনি এলাকার যেসব এলাকায় থ্রিডি সার্ভে হচ্ছে সেই এলাকার কৃষকদের ফসলের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছেন তারা এবং এলাকার কৃষকদের সাথে মতবিনিময় করে ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে। অপরদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কারনে যেসব গ্রাম ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে সেই সব গ্রামগুলোতে থ্রিডি সার্ভের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাতিগ্রামের এক কৃষক এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, কয়লা খনির কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি, যা পূরণীয় নয়। আমরা দেশের স্বার্থে এলাকার উন্নয়নের জন্য নিজেদের জায়গা জমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে পুনরায় খনি সম্প্রসারণের চিন্তা ভাবনা করছে। এতে এই এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রাম ইতিমধ্যে তারা সার্ভে শুরু করেছে। কিছু কিছু গ্রাম এলাকায় সার্ভে করতে পারছে না কারণ ইতিপূর্বে বাড়িঘর ফাটলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা থাকলেও খনি কর্তৃপক্ষ তাদেরকেক ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এ কারণেই সার্ভের কাজে বিঘা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির উত্তর দক্ষিণ পাটের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, সার্ভে কাজের বিঘা হচ্ছে এটা সত্য, কিন্তু খনি কর্তৃপক্ষ এই সব এলাকায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ইতিপূর্বেই তাদেরকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। এবং নতুন করে যারা ক্ষতির মধ্যে পড়ছেন তাদেরকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য