আজিজুল ইসলাম বারী,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি গরু পারাপারকারী ফরিদ হোসেন শরীফের (২৪) লাশ ফেরত দিয়েছে ভারতীয় কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানা পুলিশ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর জিরোপয়েন্ট এলাকায় ভারতের কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হোসেন মণ্ডল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবীরের কাছে ফরিদের লাশ হস্তান্তর করেন।

এ সময় ভারতীয় কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চ্যাংরাবান্ধা কোম্পানি কমান্ডার সুবাশ চন্দ্র, বিএসবাড়ী কোম্পানি কমান্ডার সুরেশ শর্মা ও রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ানের বুড়িমারী কোম্পানি কমান্ডার আব্দুল বাতেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) রাত দেড়টার দিকে উপজেলার বুড়িমারী ইউনিয়নের আমবাড়ী সীমান্ত পথে ভারতীয় গরু ব্যবসায়ীদের সহযোগিতায় বাংলাদেশি গরু পারাপারকারী রাখাল ফরিদসহ কয়েকজন রাখাল সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে অনুপ্রবেশ করে। এসময় কোচবিহার-৬১ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বিএসবাড়ী ক্যাম্পের টহল দল লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। তবে বাংলাদেশি অন্যান্য রাখালরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হন।

পাটগ্রাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবীর বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি ফরিদের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সুরতহাল এবং ময়না তদন্ত প্রতিবেদনে বিএসএফের গুলিতে ফরিদ নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রংপুর-৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের উপ-পরিচালক (টুআইসি) মেজর সৈয়দ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় চোরাকারবারী ঠেকাতে বিজিবি-বিএসএফের টহল জোরদার করা হয়েছে। এবং ভবিষ্যতে বিএসএফ নির্দিষ্ট কারণ ছাড়া গুলি করবে না এ মর্মে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’নিহত ফরিদ হোসেনের বাবা শামসুল হক বলেন, ‘স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় আমার ছেলে সীমান্ত পথে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছে। আর যেন কেউ সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গুরু আনতে গিয়ে বিএসএফের গুলিতে জীবন না হারায়।’

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য