সারারাত ধরে চলা ভারি বৃষ্টিপাতে গ্রিসের কেন্দ্রীয় অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু ও বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

রাজধানী এথেন্সের পশ্চিমে শিল্পনগরী মান্দ্রা, নেয়া পেরামোস ও মেগারায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, মৃতদের মধ্যে অনেকেই বৃদ্ধ এবং বাড়ির ভিতরেই তাদের লাশ পাওয়া গেছে। তীব্র কাদার স্রোতে রাস্তাগুলো ঢাকা পড়েছে।

এ ঘটনায় একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জাতীয় শোক ঘোষণা করে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী আলেক্সিস সিপ্রাস বলেছেন, “আমরা কি আর করতে পারি।”

ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়া ছাড়াও তাদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইআরটিকে মান্দ্রার মেয়র ইয়ানা কিরিকুচি বলেছেন, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাইবেলে উল্লেখ করা মহাদুর্যোগের মতো ছিল এটি।”

অন্তত ৩৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং এখনও অনেকে নিখোঁজ আছেন বলে জানিয়েছে ইআরটি।

গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেই গ্রিসের কিছু অংশে খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল, কিন্তু হঠাৎ করে সারারাত ধরে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তারা এ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ছিলেন না।

পানির তীব্র স্রোতে গাড়িগুলো ভেসে গেছে এবং ঘরবাড়ির দেয়াল ও ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় ঘরবাড়ি ডুবে যাওয়ায় অনেকেই বাস্তুহারা হয়ে পড়েছেন।

নেয়া পেরামোসের ডেপুটি মেয়র ইআরটিকে বলেছেন, “পর্বত থেকে লাখ লাখ টন পানি নেমে এসেছে। আমাদের রাস্তাগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। শহরের এক তৃতীয়াংশ বাড়ি বন্যায় ডুবে গেছে।”

ওই অঞ্চলের ডেপুটি গভর্নর ইয়ানিস ভাসিলাইয়ু ইআরটিকে বলেছেন, “আবহাওয়া খারাপ থাকায় জরুরি সার্ভিসগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, কিন্তু তারপর নায়াগ্রা ফলস নেমে আসে যাকে আর থামানো যায়নি।”

ওই তিনটি শহরের জনসংখ্যা প্রায় এক লাখের মতো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার বিকেলে গ্রিসের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, তারা ছয়শটিরও বেশি কল পেয়েছেন যেগুলোতে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। শহরগুলোতে ২০০ দমকলকর্মী ও ৫৫টি গাড়ি পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য