অ্যাসোসিয়েশন অব সাউথইস্ট এশিয়ান নেশন্স (আসিয়ান) সম্মেলনের শেষে যে বিবৃতি দেওয়া হবে তাতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিতাড়নের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হচ্ছে না বলে খবর বেরিয়েছে।

সোমবার বিবৃতির ঘোষণাপত্রের একটি অনুচ্ছেদ দেখার পর বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ওই অনুচ্ছেদে ভিয়েতনামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক ত্রাণ পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ ও ইসলামী জঙ্গিদের সঙ্গে ফিলিপিন্সের সাম্প্রতিক লড়াইয়ের বিষয়টি উল্লেখের পাশাপাশি রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের ‘ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর’ কথা বলা হয়েছে।

আসিয়ান এর বর্তমান চেয়ারম্যান রডরিগো দুতার্তের দেশ ফিলিপিন্স খসড়া বিবৃতিটি তৈরি করেছে। মিয়ানমারও ১০ সদস্যের এই জোটের সদস্য রাষ্ট্র।

সোমবার ম্যানিলায় আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোর নেতারা এক পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে মিলিত হয়েছেন।

খসড়া বিবৃতিটিতে রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি এবং ‘রোহিঙ্গা’ নামটিও ব্যবহার করা হয়নি।

এই নামটি এড়িয়ে যাওয়ার জন্য বিদেশি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সাং সু চি।

বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারের সরকার দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম বাসিন্দাদের বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং তাদের ‘রোহিঙ্গা’ পরিচয় স্বীকার করে না।

২৫ অগাস্ট রাখাইনে কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর রোহিঙ্গা নির্মূল অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এই অভিযান শুরুর পর থেকে প্রাণ বাঁচাতে ছয় লাখের বেশি রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়ে আছে।

রোহিঙ্গাদের এই দুর্দশায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। মিয়ানামার সামরিক বাহিনীর নির্মূল অভিযানের নিন্দা না জানানোয় ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়া সু চি-র সমালোচনার পাশাপাশি তাকে দেওয়া নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবিও উঠেছে।

রাখাইনে জাতিগত নির্মূল অভিযান চলছে বলে সেপ্টেম্বরে মন্তব্য করেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

আসিয়ানের কয়েকটি সদস্য দেশ, বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালয়েশিয়া, রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও জানিয়েছিল।

কিন্তু আসিয়ানের ‘এক দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অন্য দেশের হস্তক্ষেপ না করার’ নীতি মেনে সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি একপাশে সরিয়ে রাখা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

সেপ্টেম্বরে আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে ফিলিপিন্সের ইস্যু করা একটি বিবৃতিতে রাখাইন রাজ্যের রোহিঙ্গাদের ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় হিসেবে উল্লেখ না করায় ‘বাস্তবতার’ মিথ্যা বর্ণনার অভিযোগ তুলে ওই বিবৃতিতে আপত্তি করেছিল মালয়েশিয়া।

রোববার ম্যানিলায় দেওয়া ভাষণে সু চি নিজেও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কোনো কথা বলেননি। অথচ ১৯৯৯ সালে থাইল্যান্ডের দৈনিক দ্য নেশনে প্রকাশিত নিজের এক কলামে আসিয়ানের ‘হস্তক্ষেপ না করার’ নীতির সমালোচনা করেছিলেন তিনি।

তখন সামরিক জান্তা শাসিত মিয়ানমারে গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করা সু চি লিখেছিলেন, “হস্তক্ষেপ না করার এই নীতি সাহায্য না করার একটি অজুহাত মাত্র। বর্তমান সময়ে অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা কেউ এড়াতে পারে না।”

আসিয়ানের শীর্ষ সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে মনে করছেন ফিলিপিন্সের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্তো রোমুলোও।

ফিলিপিনো নিউজ চ্যানেল এএনসিকে তিনি বলেছেন, “অং সাং সু চির মতো নন্দিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ীকে তারা খুব সম্মান দেখাচ্ছে।”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য