মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) থেকেঃ নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের দুইটি পাইকারি কাঁচা বাজার একত্রিত করাসহ যানজট নিরসনে শহরের বাইপাস সড়কের পাশে কয়া মিস্ত্রীপাড়ার সেপটি ট্যাংক সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয় সৈয়দপুর কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নিজস্ব মার্কেট। সে সময় আনুষ্ঠানিকতার সাথে উদ্বোধনও করা হয়েছিল মার্কেটটি। কিন্তু উদ্বোধনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও আলোর মুখ দেখেনি সৈয়দপুর কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির নিজস্ব পাইকারি মার্কেট। অযতেœ অবহেলায় পড়ে রয়েছে ওই মার্কেটে নির্মাণ করা শতাধিক দোকান।

মার্কেট চালু না হওয়ায় নিজের সঞ্চিত পুঁজি ও ব্যাংক ঋণ নিয়ে গড়ে তোলা মার্কেটের দোকানাদাররা এখন চরম হতাশাগ্রস্থ। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীরা মার্কেটটি চালু করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান ।

সূত্র জানায়, সৈয়দপুর শহরে দুটি পাইকারি কাঁচা বাজার রয়েছে। এ বাজারে মালামাল লোড-আনলোড করার সময় যানজট সৃষ্টি হয়। ফলে যানজট নিরসনে কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা সিদ্ধান্ত নেন শহর সংলগ্ন অন্য কোন স্থানে পাইকারি বাজার স্থাপনের। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০০৮ সালে শহরের বাইপাস সড়ক সংলগ্ন কয়া মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকায় ১১২ শতক জমি খরিদ করা হয়। ওই জমি খরিদের পর থেকে ব্যবসায়ীরা মার্কেট নির্মাণের কাজ শুরু করেন।

তারা নিজের পুঁজি বিনিয়োগ এবং ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে শতাধিক দোকান নির্মাণ করেন। মার্কেটের দোকান নির্মাণ শেষে গত বছরের ৯ নভেম্বর এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সে সময় এ মার্কেটের উদ্বোধন করেন প্রয়াত উপজেলা চেয়ারম্যান জাওয়াদুল হক ও পৌর মেয়র আমজাদ হোসেন সরকার। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ শহরের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

ওই অনুষ্ঠানে বলা হয়েছিল এ মার্কেট নির্মাণের ফলে একদিকে যেমন কাঁচামালের ব্যবসায় গতি আসবে, তেমনি শহরের যানজটও কমে আসবে। এজন্য কাঁচামাল ব্যবসায়ীদের ধন্যবাদ জানান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অতিথিরা। সে সময় এ মার্কেটে কাঁচামাল বেচাকেনার জন্য সকল ব্যবসায়ীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। কিন্তু কাজ হয়নি কোন। সে সময় থেকে বন্ধ রয়েছে মার্কেটের সকল দোকান। এটি চালু না হওয়ায় অযতেœ অবহেলায় পড়ে থাকা দোকানগুলো যেমন নষ্ট হচ্ছে তেমনি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী বজলার রশিদ বাবুল, মারুফ বিন কবির, মিজানুর রহমান লিটন, সাজিদ, আরমান, গুলশানসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শহরের যানজট নিরনসনসহ ক্রেতা বিক্রেতাদের সুবিধার্থে আমরা নিজের পুঁজি বিনিয়োগসহ ব্যাংক ঋণ নিয়ে মিস্ত্রীপাড়া এলাকায় মার্কেট করেছি। কিন্তু এক বছরেও মার্কেট চালু হয়নি। ফলে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

জানতে চাইলে সৈয়দপুর কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল মোহাম্মদ আজম বলেন, মার্কেটটি চালু না হওয়ায় আমরা ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ব্যাংক ঋণও পরিশোধ করতে পারছি না। ফলে মার্কেটটি চালুর ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এ প্রসঙ্গে সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র মো. আমজাদ হোসেন সরকার জানান, খুব শিগগিরই ওই কাঁচামাল সমিতির মার্কেটটি চালু করা হবে। এতে করে দূর-দূরান্ত থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসা খোলামেলা পরিবেশে তাঁদের বেচাকেনা সারতে পারবেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য