তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদাতাঃ রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের মুখে হাসি ফোটালেন স্যাকমো জাহিদুর রহমান।

জানা গেছে,জাতীয় পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি ১০ জন জন্মগ্রহনকারীর মধ্যে ১ জন সময়ের পূর্বে ও কম ওজনে জন্মগ্রহন করে। নির্ভর করতে হয় এলাকাবাসীকে সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ।

সন্তান প্রসব করতে গর্ভবতী মায়ের যেতে হতো ৩৫ কিঃ মিঃ দুরে রংপুর জেলা হাসপাতালে অথবা তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে এই ইউনিয়নের বেশির ভাগ নারীই সন্তান প্রসাবের জন্য স্বাভাবিক ভাবে নিজের বাড়ি ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে উপর সহায়তা পাচ্ছেন।

তথ্য অনুযায়ী সয়ার ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র্রের চিত্রটি গত ১০ই মার্চ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৩১ জন প্রসুতি মা সন্তান জন্ম দিয়ে হাসি মুখে বাড়ি ফিরেছেন।

তৎকালীন মেডিকেল অফিসারের তত্বধানে সঠিক সময়ে ল্যাম্ব ও কেন্দ্রের সকল কর্মী এবং জনপ্রতিনিধির সার্বিক সহযোগীতায় প্রসব সু-সম্পর্ন হয়েছে। উপরোক্ত ৩১ জন গর্ভবতী মায়ের মধ্যে মাত্র ০১ জন মা ১৬-০৬-১৭ ইং তারিখে সঠিক সময়ে সন্তান প্রসব করেন শিশুটির ওজন (২ কেজি ৩০০ গ্রাম)।

গণপ্রজাতান্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং তৃণমূল গ্রামবাংলার এখন স্বাস্থ্যসেবা তথ্য মাতৃকালীন নিরাপদমাতৃত্ব প্রসবে বিশ্বের কাছে অবদান রাখছে।তার মধ্যে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ্র দৃষ্টান্ত মূলক।

এই কার্যক্রম প্রসূতি নারী ও পরিবারের মাঝে প্রশান্তি আনলেও কেন্দ্রটিতে রয়েছে লোকবল আর ওষুধ সংকট।

চাহিদার তুলনায় এক তৃতীয় অংশ রোগীর সেবা দেয়া সম্ভব হয়ে থাকে।এতে উপসহকারী কর্মকর্তা, পরিদর্শিকা,ফার্মাসিষ্ট,আয়া ও নৈশ্য প্রহরীসহ পাঁচ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন দুই জন।প্রায় ১৫ বছর থেকে ফার্মাসিষ্ট,আয়া ও নৈশ্য প্রহরী নেই বলে জানা গেছে।উপ-সহকারী কর্মকর্তা ও পরিদর্শিকা মিলে অন্যান্য রোগীদের পাশা পাশি গর্ভবতী ও প্রসূতি নারীদের স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন ।কেন্দ্রটিতে নিরাপদ প্রসবের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ওষুধ নেই। আর এসব সেবা পেতে রোগীদের বাইরে থেকে বেশির ভাগ ওষুধপত্র ক্রয় করতে হয়।

উপ-সহকারী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন,এখানে রোগী অনেক বেশী কিন্তু লোকবল ও ওষুধ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।বিশেস কওে আয়া না থাকায় পরিস্কার পরিচ্ছন্নতায় বেশি সমস্যা হচ্ছে।নিজস্ব অর্থায়নে সকল ব্যয় বহন করতে হয়।তার পর ও সংকট সামলে গর্ভবতী ও প্রসূতিদের সর্বোচ্চ স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।বাবার কৃতিত্ব ধরে জন দূর্ভোগ ও দুখি মানুষের সেবা করতে ভাল বাসেন তিনি।

ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রর নিবন্ধন তথ্য থেকে জানা যায়,সর্ব প্রথম নিরাপদ প্রসব হয় ১০শে মার্চ ।পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সুলতানা বেগম বলেন,প্রসাবের পর মায়েদের হাসিমাখা মুখ যখন দেখি তখন কী যে আনন্দ লাগে ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না।

৫ নং সয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস,এম মহিউদ্দিন আজম কিরন বলেন,প্রায় লক্ষাধিক লোকের বসবাস গর্ভবতী নারীদের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে খুব সমস্যা হত ।বর্তমান বাড়ির পাশেই প্রসূতিরা সেবা পাচ্ছেন।তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লোকবল ও ওষুধ সংকটের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।তবেই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় সমুজ্জল হবে।

এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা তারাগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হোসনে আরা বেগম বলেন,স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লোকবল ও ওষুধ সংকটের বিষয়টি শুনেছি।আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে বিষয়টি জানিয়েছি। সমস্যাগুলো সমাধানের প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য