তারাগঞ্জ (রংপুর) সংবাদাতা: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত চলছে বাল্যবিবাহ । সূত্রে জানা গেছে, এসব বাল্য বিয়ে ইউপি সদস্য ,বিবাহ নিবন্ধক,তথ্য সেবার উদ্দ্যোক্তা ও চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় হয়ে থাকে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বর্তমান সরকারের নীতিমালা অনুযায়ী মেয়েদের বয়স ১৮ ছেলেদের বয়স ২১ উল্লেখ থাকলেও স্থানীয় প্রশাসন জনপ্রতিনিধি ও বিবাহ নিবন্ধকরা তা বহির্ভুত করে যোগসাজোশে চালিয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন একাধিক বাল্য বিবাহ।জিও এনজিও নানা প্রচার প্রচারণা করেও কোন সুফল হচ্ছে না। উপজেলায় একাধিক স্কুল পড়–য়া ছাত্র-ছাত্রীদের ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে বিয়ে দিচ্ছে অভিভাবক।

সমাজের অধিকাংশ মানুষ এখন বাল্যবিবাহের কুফল সর্ম্পকে জেনেও সন্তানদের বিপদের দিকে ধাবিত করছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের দাবী,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় নিম্ন আয়ের নানা ভাবে এ ধরনের কাজে জরিয়ে পড়ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিভাবক বলেন, আমাদের সমাজে নিম্নবিত্ত পরিবারে মেয়েকে বোঝা বলে মনে করা হয়।তাই যত তাড়াতাড়ি মেয়েকে পরের ঘরে তুলে দেয়া যায় তাতেই মঙ্গল।এসব কারনেই স্বীকার হচ্ছে কোমল মতি বাড়তি বয়সের ছাত্র-ছাত্রী। যার ফলে এসব পরিবারের ছোট মেয়েরা স্বীকার হচ্ছে বাল্যবিয়ের।

সরেজমিনে দেখা যায় গত কয়েক দিন আগে ইকরচালী ইউনিয়নের বরাতী বাজার গ্রামের মনির উদ্দিনের মেয়ে মনিফা আক্তার(১৪)সে বরাতী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী বাল্য বিয়ের স্বীকার হয়।তার বাবার সাথে কথা হলে তিনি বলেন আমি এক জন ভ্যন চালক।মেয়েকে পড়াশুনা করে কি লাভ যত তাড়াতাড়ী ভাল ছেলে দেখে বিয়ে দেয়া যায় সেটাই ভাল।

এদিকে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের মেনানগর ইমাম পাড়া গ্রামের আমজাদ আলীর মেয়ে আক্তারা খাতুন(১৫) চান্দের পুকুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীর ছাত্রী।সয়ার ইউনিয়নের বাঙ্গালীপাড়া গ্রামের ইউনুছ আলীর মেয়ে ইনছানা খাতুন(১৫)বাড়াপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের বেঙ্গল ঠসার মেয়ে মলি আক্তার(১৩) বুড়ির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেনীর ছাত্রী।সরকার পাড়া গ্রামের আলতাব উদ্দিনের মেয়ে তাছমিনা আক্তার(১৩)বুড়ির হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্রী।

আলমপুর ইউনিয়নের মধুরামপুর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের হাফিজুল ইসলামের মেয়ে হাফিজা খাতুন(১৪)ভীমপুর দারুস সালাম দাখিল মাদ্রাসার নবম শ্রেণীর ছাত্রী, সেও বাল্য বিয়ের স্বীকার।

তারাগঞ্জ উপজেলা নিবন্ধকের সভাপতি এস এম জিকরুল হক বলেন,বাল্য বিবাহের বিষয়ে আইন রয়েছে।আমরা নীতিমালার বাইরে কিছু করতে গেলে আমাদের রেজিষ্ঠার বাতিল হয়ে যাবে।আরো বলেন কিছু এলাকার প্রভাব শালি ব্যক্তি নিজেই গ্রাম পর্যায়ে মৌলভী দিয়ে বিবাহ দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিলুফা সুলতানার বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য