আরিফ উদ্দিন, গাইবান্ধা থেকেঃ গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তরফ সাদুল্যা গ্রামের সন্ত্রাসী বাদশা মিয়া সপরিবারে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেন্সিডিল বিক্রি ও নানা অপকর্ম অবাধে চালিয়ে আসছে। তার এই মাদক ব্যবসা ও অপকর্মে প্রতিবেশীরা বাধা দেয়ায় তাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করা হচ্ছে। রোববার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবে সম্মেলনের মাধ্যমে এর প্রতিকার দাবি করা হয়।

App DinajpurNews Gif

সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল মালেক উল্লেখ করেন, ইদিলপুর ইউনিয়নের তরফ সাদুল্যা গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে সন্ত্রাসী বাদশা মিয়া, তার স্ত্রী রশিদা বেগম, তাদের স্বামী পরিত্যক্ত মেয়ে সাথী বেগম, অপর মেয়ে সুমি বেগম, দুই ছেলে সবুজ মিয়া ও সুজন মিয়া দীর্ঘদিন যাবত বাড়িতে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা বিক্রি করে আসছে।

এছাড়া বাদশা মিয়া মেয়ে সাথী বেগম ও সুমি বেগমকে দিয়ে নানা অপকর্ম চালিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তাদের নামে সাদুল্যাপুর থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। সাদুল্যাপুর থানা পুলিশ গত ১ মার্চ (জিআর ৮০/২০১৭) মামলায় বাদশা মিয়া এবং গত ৭ মার্চ (জিআর ৯২/২০১৭) মামলায় রশিদা বেগম ও মেয়ে সাথী বেগমকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠায়।

তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে প্রতিবেশীদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে নানাভাবে হয়রানী শুরু করে। এমনকি বাদশার স্ত্রী রশিদা বেগম ও তার মেয়ে সুমি বেগম শরীর ক্ষতবিক্ষত করে গত ২৫ এপ্রিল রশিদা বেগম বাদি হয়ে এসিড অপরাধ দমন আইনে মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় পুলিশ প্রতিবেশী রঞ্জু মিয়াকে গ্রেফতার করে। রঞ্জু মিয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করায় তার স্ত্রী শান্তি বেগম হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায়।

এছাড়াও বাদশা মিয়া নিজের রান্নার কুঁড়ে ঘরে নিজেই আগুন দিয়ে গত ১৯ জুলাই প্রতিবেশী ১২ জনের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। উক্ত মামলায় ডিপটি মিয়া নামে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয় ওই সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তাদের ভয়ে এলাকার মানুষ চরম অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বাস করছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মো. শাহজাহান, ফারুক হোসেন, মো. আব্দুল খালেক, মো. রঞ্জু মিয়া, আব্দুস সামাদ, মো. এখলাস, মো. রমজান আলী প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য