বাহরাইনের প্রধান তেল পাইপলাইনে একটি বিস্ফোরণের ঘটনায় পাইপলাইনটিতে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবারের এ ঘটনাটিকে ‘সন্ত্রাসীদের’ নাকশতা অভিহিত করে এর জন্য ইরানকে দায়ী করেছে দেশটি, খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

ইরান অভিযোগ অস্বীকার করে পারস্য উপসাগরের ওই দ্বীপদেশটিতে চলা অস্থিরতায় নিজেদের কোনো ভূমিকা নেই বলে দাবি করেছে।

সুন্নি বাদশা শাসিত বাহরাইনে শিয়া জনগোষ্ঠীই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কয়েক বছর ধরে চলা সরকারবিরোধী প্রতিবাদ ও বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় দেশটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ায় পশ্চিমা শক্তিগুলোর অন্যতম প্রধান মিত্র বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি আছে।

নিজেদের ওয়েবসাইটে দেওয়া বিবৃতিতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, “এই ঘটনাটি একটি নাশকতার ঘটনা। জাতির সর্বোচ্চ স্বার্থে আঘাত করার জন্য এবং জনগণের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে বিপজ্জনক এই সন্ত্রাসীবাদী তৎপরতা চালানো হয়েছে।”

বিবৃতিতে দেওয়া উদ্ধৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ রাশিদ বিন আব্দুল্লাহ আল খলিফা বলেছেন, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে যে ধরনের সন্ত্রাসবাদী তৎপরতা দেখা যাচ্ছে তা সরাসরি ইরানের যোগসাজশে ও নির্দেশনায় চালানো হচ্ছে।”

তেল পাইপলাইনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

শনিবার সকালে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পাইপলাইনটিতে তেলের প্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাষ্ট্রীয় পেট্রলিয়াম কোম্পানি বাপকো (বাহরাইন পেট্রলিয়াম কোম্পানি) ।

রাজধানী মানামা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে বুরি গ্রামের কাছে ঘটনাটি ঘটেছে এবং নিরাপত্তার জন্য ঘটনাস্থল সংলগ্ন বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে বিবৃতিতে বলা হয়েছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সৌদি আরব থেকে বাহরাইনে তেল সরবরাহ স্থগিত রাখা হয়েছে এবং সৌদির তেল স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

২০১১ সালে বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ শক্তি প্রয়োগে শিয়াদের নেতৃত্বাধীন ‘আরব বসন্ত’ আন্দোলন দমন করে। এরপর থেকে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী বোমা হামলা ও বন্দুক হামলা শুরু করে সরকার বিরোধীরা। এসব ঘটনার জন্য সরাসরি তেহরানকে দায়ী করেছে মানামা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য