কাহারোল (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ “এখন আগাম আলু করছি, এর পর গম তার পর আউস ধান চাষ করবো। বছরে অন্তত তিনটি ফসল চাষাবাদ করি একই জমিতে। কোনো বার চারটি ফসল ও চাষ করি। গত বছর আগাম জাতের আলু চাষাবাদ করে ভাল দাম পেয়েছিলাম। এবারও আশা করছি”। কথা গুলো বলেন দিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের গড়নূরপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল জলিল।

তিনি ৬ বিঘা জমি আগাম জাতের আলুর বীজ রোপন করেছেন তিনি। ১২ জন শ্রমিক নিয়ে জোরে সোরে তার জমিতে চলছে আলু রোপনের কাজ। আব্দুল জলিল তিনি আরো জানান, ৬০ দিনের মধ্যে আলু উঠিয়ে বিক্রি করা যাবে হাট-বাজারে। আলু তোলা পর্যন্ত ৬ বিঘা জমিতে দেড় লাখ টাকা খরচ হলোও আড়াই লাখ টাকা পাওয়া যাবে বিক্রি করে। অন্যদিকে, আগাম আলূ উৎপাদনই নয়, অসময়ে কাজ করতে পেরে খুশি নয়াবাদ গ্রামের পারুল রানী রায়। দৈনিক মুজুরি হিসাবে ১৮০ টাকায় হাজিরা কাজ করছেন জমিতে।

তিনি বলেন “এই সময়ে কাজ থাকেনা। আগাম আলু চাষের কারণেই বসে থাকতে হচ্ছে না। প্রতিদিনেই কাজ করা যাচ্ছে। সংসারও চলছে ভালোই। আগোত এই সময়টা বসে থাকতে হয় বলে মন্তব্য করেন আরেকজন মহিলা শ্রমিক বিউটি রানী রায়। শুধু বিউটি নয় মাঠে দল বেঁধে কাজ করছেন অন্যানা, মেনকা রানী রায়, মিনা রানী রায়, অতুল চন্দ্র রায় সহ ১০/১২ জন শ্রমিক। উপজেলার রামচন্দ্র পুর ইউনিয়নের কাজী কাটনা গ্রামের শাহাজান মিয়া জানান, এ বছর আগাম জাতের আলুর বীজের দাম কম। সারের কোন সমস্যা নেই।

বিঘা প্রতি উৎপাদন হবে প্রায় আড়াই হাজার কেজি আলু। সটিক সময়ে আলু উঠিয়ে বাজারে বিক্রি করতে পারলে প্রতি কেজি আলু অন্তত ৬০টাকা দরে বিক্রি করতে পারলে ৭০ হাজার টাকার মত মুনাফা অর্জন হবে। আলু চাষ হয়ে থাকে মন্তব্য করে কৃষক ফজলুর রহমান মন্তব্য করে বলেন দিন দিন আলু চাষীর সংখ্যা বাড়ছে কাহারোল উপজেলায়। এব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ শামীম বলেন, আগাম জাতের আলু চাষাবাদের ক্ষেত্রে আবহওয়া অনুকুলে রয়েছে। আলু বীজ রোপনের ৫৫দিন পর থেকেই আলু উঠানো যায় জমি থেকে।

এখানকার আগাম আলু দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। যার ফলে ভাল দাম পেয়ে থাকে কৃষকরা। গেনুলা জাতের আগাম আলুর বীজ উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৫৫০ হেক্টের জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের উদ্ধুদ্ধকরণসহ প্রয়োজনীয় পরামর্শে লাভ বান হচ্ছেন আলু চাষীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য