মোঃ জাকির হোসেন, সৈয়দপুর থেকেঃ নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারী লাইসেন্স নিয়ে লাইসেন্সে উল্লেখকৃত নিয়ম-নীতি ভঙ্গ করে দীর্ঘদিন ধরে বাংলামদ বিক্রি করায় মদপানকারীরা এ নেশায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ায় আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। পৌর এলাকায় নির্ধারিত পরিমাণের ওই মদ বিক্রি নির্দেশ থাকলেও সেখানে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৪০-৫০ ব্যারেল মদ বিক্রি করলেও মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজন কোন ব্যবস্থাই নিচ্ছেন না। যার ফলে মাদকের শহরে পরিণত হয়ে একটার পর একটা অপরাধ কর্ম বেড়েই চলেছে।

জানা গেছে, প্রতিটি অর্থ বছরে লাইসেন্স হোল্ডার ব্যক্তিদের দেশীয় বাংলা মদ বিক্রিতে অনুমোদন দেয় মাদক দ্রব্য অধিদপ্তরের পরিদর্শকের কার্যালয় থেকে। সে সময় অনুমোদন পত্রে উল্লে¬¬খ করা হয় লাইসেন্সকৃতরা তাদের মদ বিক্রি ভাটিতেই প্রতিদিন প্রায় দেড় শ লিটার এর বেশী মদ বিক্রি করতে পারবে না। বিক্রিত মদ ভাটিতেই পান করতে হবে।

ভাটি থেকে এক আউন্স মদও বাইরে নিয়ে যাওয়া চলবে না। ভাটির বাইরে এক আউন্স মদও যদি সরবরাহের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে ওই মদ বিক্রির লাইসেন্স বাতিল করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সৈয়দপুর শহরের ওই ব্যবসায়ী সরকারের দেয়া আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মদ ভাটি ছাড়াও বাইরে প্রতিদিন প্রায় ৩০ ব্যারেল মদ খুচরা ও পাইকারী ভাবে বিক্রি করে চলেছে।

আর এ কারণেই শহরের রেললাইন সংলগ্ন এলাকা, বাস টার্মিনাল এলাকা, সাদ্দাম মোড়, গোলাহাট, মুন্সিপাড়া মোড় ও শহরের একাধিক পাড়া মহল্ল¬ায় চলছে মদের রমরমা বাণিজ্য। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ মদ সৈয়দপুরের ইউনিয়নগুলোসহ পার্শ্ববর্তী রংপুরের তারাগঞ্জ, দিনাজপুরের রাণীরবন্দর, নীলফামারী সদরের টেক্সটাইলসহ অন্য উপজেলাগুলোয় সরবরাহ করা হচ্ছে এখান থেকে। যার ফলে সরকারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নির্ধারিত দেড়শ’ লিটার মদের বেশি বিক্রি করে একদিকে যেমন সরকারকে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তেমনি মদপায়ীদের কারণে বেড়েছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড।

একাধিক সূত্রের অভিযোগ, লাইসেন্স নিয়ে অবৈধভাবে নিয়ম ভেঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং পুলিশ প্রশাসনের সাথে আতাঁত করে মদভাটির মালিক তার এসব কারবার চালিয়ে আসলেও এনিয়ে কেউ মাথা ঘামান না।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাজাহান পাশার সাথে কথা হলে তিনি জানান, মদভাটির বিধি-বিধান মতে মদ বিক্রি করতে হবে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা আজহার আলী মিয়া এ ব্যাপারে জানান, লাইসেন্সে উল্লেখকৃত বিধি-বিধান ভঙ্গ করলে অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য