ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের একটি শহরতলীর রাস্তায় প্রকাশ্যে মুসলিমদের জুমার নামাজ আদায়ের প্রতিবাদে প্রায় ১০০ রাজনীতিক সেখানে মিছিল নিয়ে গিয়েছেন।

বিবিসি জানিয়েছে, অফিসের তেরঙা উত্তরীয় পরা ওই রাজনীতিকরা জাতীয় সংগীত গেয়ে প্যারিসের ক্লিশি এলাকার রাস্তায় প্রায় ২০০ মুসলিমের নামাজ আদায়ে বিঘ্ন ঘটান।

প্রতিবাদে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই মধ্য-ডানপন্থি রিপাবলিকান ও ইউডিআই পার্টির নেতাকর্মী।

উভয়পক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে দুপক্ষকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে পুলিশ, তারপরও কিছু মারামারির ঘটনা ঘটেছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ফ্রান্সের কঠোর ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় সরকারি জায়গা ব্যবহার করে নামাজ আদায় অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন সমালোচকরা।

অপরদিকে মুসুল্লিরা দাবি করেছেন, যে ঘরটিতে তারা নামাজ পড়তেন মার্চে টাউন হল কর্তৃপক্ষ তা নিয়ে নেওয়ার পর থেকে তাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গা নেই।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সেই সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করে। দেশটিতে মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ।

কাউন্সিলর ও পার্লামেন্ট সদস্যদের শুক্রবারের প্রতিবাদে নেতৃত্ব দেওয়া প্যারিস অঞ্চলের কাউন্সিল প্রেসিডেন্ট ভ্যালেরি পিক্রেস বলেছেন, “এই ভাবে সরকারি জায়গা নিয়ে নেওয়া যায় না।”

ক্লিশির ডানপন্থি মেয়র রেমি মিজো রাস্তায় প্রার্থনা করার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিজো বলেছেন, “আমার শহরে প্রত্যেককে স্বাধীনতা ও শান্তির গ্যারান্টি দেওয়ার দায়িত্ব আমার।”

অপরদিকে মুসুল্লিদের মধ্য থেকে আব্দেলকাদের নামে একজন জানিয়েছেন, প্রতি শুক্রবারে রাস্তায় নামাজ পড়তে তাদের ভাল লাগেনা এবং নামাজের জন্য তারা একটি ‘মর্যাদাপূর্ণ’ জায়গা চান।

প্রতিবাদের সময় ওই রাজনীতিকরা ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত গাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, “যদিও এখানে আমরা সবাই ফরাসি, তবুও তারা আমাদের মুখের ওপর মার্সাইয়েজ(ফ্রান্সের জাতীয় সংগীত) গেয়েছে।আমরা ফরাসি। ফ্রান্স দীর্ঘজীবী হউক!”

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য