রংপুরে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষে পুলিশসহ ১৫জন আহত হয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয়েছে ১৫টি বাড়ি। রংপুরের পাগলাপীর এলাকায় এক হিন্দু যুবক মহানবী হযরত মুহম্মদ (সাঃ)কে নিয়ে ফেসবুকে অবমাননাকর পোষ্ট দেওয়ার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে ধর্মপ্রাণ মুসলিম জনতা রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার সময় ওই সঘংর্ষ হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে সেখানে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এলাকাবাসি ও পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, রংপুর সদরের পাগলাপীর সলেয়াসা এলাকায় কয়েকদিন আগে টিটু রায় নামে এক যুবক তার ফেসবুক (মোঃ টিটু) আইডিতে হযরত মুহম্মদ(সাঃ) সম্পর্কে অবমাননাকর পোষ্ট দেন। এতে এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তারা ওই যুবকের শাস্তির দাবিতে শুক্রবার বাদ জুম্মা সলেয়াসা বাজার এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়।

জুম্মার নামাজের পর শত শত মানুষ সলেয়াসা বাজার এলাকায় জমায়েত হয় এবং মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় ওই সড়কের দুধারে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে অবরোধকারিদের রাস্তা ছেড়ে দেবার আহবান জানায়।

এনিয়ে পুলিশের সাথে অবরোধকারিদের কথাকাটাকাটি ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে ১৫০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপে ১৫ জন আহত।

এদের মধ্যে হাবিব মিয়া, মাহবুল মিয়া, আলীম মিয়া, নাজির হোসেন, আলিম, জামিল, রফিকুল, নাসিরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাধিন অবস্থায় হাবিব মিয়া নামে একজন মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন মেডিকেল ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির টিএসআই গোলাম কিবরিয়া।

আহতদের মধ্যে ৫ পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের নাম পাওয়া গেছে। এরা হলেন এসআই সেলিম মিয়া, কনসটেবল নাসির হোসেন, রফিকুল ইসলাম। উত্তেজিত জনতা সলেয়াসা বাজার ব্রাক্ষমপাড়া এলাকায় হিরেন বাবু, ধীরেন রায়, মন্টুসহ ৫টি সংখ্যালঘুর বাড়িতে আগুন দেয় এবং ১০টি বাড়ি ভাংচুর করে। হিরেন জানান, উৎশৃংকল লোকজন এসে আমার বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। আগুনে আমার সব কিছু পুড়ে গেছে।

মুসল্লি আলিফ মিয়া ও রায়হান কবির জানান, আমরা নবীজী সম্পর্কে কটুক্তিকারির শাস্তির দাবিতে শান্তিপুর্ন বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের উপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

কোতয়ালি থানার ওসি (তদন্ত )আজিজুল ইসলাম জানান, মহাসড়ক অবরোধ থেকে সরে যাবার আহবান জানালে জনতা পুলিশের উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। ইটপাটকেলে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য