গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ও গ্রামের দোকানপাট গুলোতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে অনুমোদনহীন অস্বাস্থ্যকর বেকারীখাদ্য সামগ্রী। প্রশাসনের নজরদারী না থাকায় এসব নি¤œমানের খাবার খেয়ে ডায়রিয়া, আমাশয়, বমি সহ নানা পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ সব বয়সের মানুষ।

১০ অক্টোবর উপজেলার জুমারবাড়ি, বোনারপাড়া, কচুয়া, উল্ল্যাসোনাতলা ও ভরতখালী এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এসব এলাকায় রয়েছে ১৫ টি ছোট-বড় বেকারী কারখানা। কারখানা গুলোতে তৈরি হচ্ছে অতি নি¤œমানের খাদ্য সামগ্রী।

মাত্রাতিরিক্ত স্যাকারিন, রজন, সোহারা পাউডারসহ বিভিন্ন কেমিক্যাল মেশানো এসব খাবারের প্যাকেটে শিশুদের আর্কষনীয় করে তুলতে রং-বেরংয়ের ছবি দেওয়া হচ্ছে। উপজেলার বোনারপাড়া, বারকোনা, নয়াবন্দর, কচুয়া, ভুতমারা বাজার, হলদিয়া সহ বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় চায়ের দোকান ও মুদি দোকানে বিক্রি হচ্ছে নি¤œমানের রুটি, কেক, মিষ্টি সিংঙ্গারা, টোষ্ট, চানাচুর ছাড়াও হরেক রকম খাদ্য সামগ্রী।

কম দামের অস্বাস্থকর প্লাষ্টিক প্যাকেটে মোড়ানো এসব খাবার খেয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। বেকারীর এসব ভেজাল খাদ্য খেয়ে ডায়রিয়া আক্্রান্ত হয়ে গত ১০ দিনে সাঘাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্ের চিকিৎসা নিয়েছে, শাকিব (৫), আবদুর রহিম (১২), আবদুর রহমান (২৫), শাইরি (২) সহ অন্তত ৩০ শিশু। নোংড়া ও দুর্গন্ধময় পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে বেকারী খাবার। বোনারপাড়ার মুদি দোকানি শাহজাহান, জুমারবাড়ীর মুদি দোকানি আবুল মিয়া, পশ্চিমবাটির মুদি দোকানি সুমন ও দুর্গাপুরের মুদি দোকানি আবদুল মান্নানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রথমে এসব খাদ্য পণ্য তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধেই দিয়ে যায় বেকারীর লোকজন।

দু একদিন পরে বিক্রি হলে টাকা নিয়ে যায়। দোকানীরা জানান, এসব খাদ্য খাবারের উপযোগী না হলেও ভাল মানের বেকারীর খাদ্য না পাওয়ায় এবং বেকারীর লোকদের নানা ফাঁদে পড়ে এসব বিক্রি করছি। শিমুল তাইড় গ্রামের আশাদুজ্জামান সুমন বলেন, এলাকার সব দোকানেই এসব নি¤œ মানের বেকারীর পন্য।

জুমারবাড়ী এলাকার বেকারীর মালিক আমজাদ হোসেন জানান, আমার বেকারীতে সকল খাদ্য সামগ্রী মান সম্মত। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ বলেন, ইতি পূর্বে মাঝে মধ্যেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছিল। সরকারি বাঁধা থাকায় বর্তমানে করা হচ্ছে না। উপজেলা সেনেটারী কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম জানান, মাঝে মধ্যেই ভেজাল বেকারির খাদ্য বিষয়ে অভিযান চালানো হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য