বিশ্বের অন্যতম দূষিত নগরী দিল্লিকে গত কয়েক দিন ধরে জুঝতে হচ্ছে মারাত্মক ধোঁয়াশার সঙ্গে। কুয়াশার স্তর এতটাই ভারী, যে তাকে সংবাদ মাধ্যমে বর্ণনা করা হচ্ছে কুয়াশার কম্বল হিসেবে।

বিবিসি জানিয়েছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দূষণের যে সীমা পর্যন্ত জনস্বাস্থের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচনা করে, ভারতের রাজধানীর বাতাস এখন তার চেয়ে ৩০ গুণ বেশি দূষিত।

এই পরিস্থিতিকে ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি’ ঘোষণা করেছে ভারতের মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন।

কিন্তু এই ধোঁয়াসার উৎস কী?

বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, বছরের এই সময়টায় ভারতের ওপর দিয়ে যে বাতাস বয়ে যায়, তা আসে মধ্যপ্রাচ্যের দিক থেকে। কুয়েত, ইরান সৌদি আরবের ওপর দিয়ে আসার সময় সেই বাতাসে মেশে মরুর ধুলো।

ভারতের উত্তর অঞ্চলে পৌঁছানোর আগে পাকিস্তানে তুলনামূলকভাবে শীতল এলাকা পাড়ি দেয় সেই বাতাস। সেখানে ধুলোর সঙ্গে যোগ হয় জলকণা, তৈরি হয় কুয়াশার।

কেবল দিল্লি নয়, এই কুয়াশা ভারতীয় রাজধানীর আশপাশের রাজ্যগুলোতেও হানা দিচ্ছে। কিন্তু দিল্লির পরিস্থিতি করুণ করে তুলেছে হরিয়ানা আর পাঞ্জাব।

এনডিটিভি লিখেছে, বছরের এই সময়টায় ওই দুই রাজ্যের কৃষকরা ফসল তোলার পর মাঠেই নাড়া পুড়িয়ে দেয়। বিস্তীর্ণ এলাকায় সেই নাড়া পোড়ানোর ধোঁয়া মিশছে আরব থেকে ধুলো আর পাকিস্তান থেকে জলকণা নিয়ে আসা কুয়াশার সঙ্গে।

সব মিলিয়ে যে ভারী ধোঁয়াশার সৃষ্টি হচ্ছে, তা ঝুলে থাকছে দিল্লির আকাশে। রাতে তাতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ আরও বাড়ছে, সকাল থেকে পুরো নগরী ঢেকে থাকছে ধূসর -বাদামি কুজ্ঝটিকায়।

নাসার স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে দিল্লির ধোঁয়াশার এমন ব্যাখ্যাই দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা।

এনডিটিভি লিখেছে, দিল্লির বাতাসে এখন ভাসমান বস্তুকণার (পার্টিকুলেট ম্যাটার) পরিমাণ ‘বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী’ বেইজিংয়ের চেয়েও দশ গুণ বেশি। কাশি, শ্বাসকষ্টের মত নানা উপসর্গ নিয়ে রোগীর ভিড় বাড়ছে হাসপাতালে।

এর মধ্যেও জীবিকার তাগিদে রাস্তায় নামতে হচ্ছে মানুষকে। সবার মুখে দেখা যাচ্ছে মাস্ক, মাথায় আচ্ছাদন। দৃষ্টি সীমা এতটাই কমে এসেছে যে প্রত্যেক চালককে গাড়ি চালাতে হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে।

এই আতঙ্কজনক পরিস্থিতিতে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দিল্লি রাজ্য সরকার। শহরে গাড়ির পার্কিং ফি চারগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে কিছু স্কুল। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যবাহী গাড়ি ছাড়া আর কোনো ট্রাক বা বাণিজ্যিক বাহনকে দিল্লিতে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

ভারতের সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের গবেষক পলাশ মুখার্জি বিবিসিকে বলেন, “গত বছরও ঠিক একই জিনিস হয়েছিল। বাতাসে যে পলিউট্যান্টগুলো আছে সেগুলো বেরোনোর কোনো পথ পাচ্ছে না আবহাওয়ার কন্ডিশনের কারণে। বাতাসের গতি কমে গেছে বলে দূষণ বেরোতে পারছে না।… ‘মিক্সিং লেয়ার’ যেটাকে বলে, সেটার উচ্চতা অনেক কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলের নিচের দিকে পলিউট্যান্টের ঘনত্ব অনেক বেড়ে গেছে, সেটাই সমস্যার প্রধান কারণ।”

তবে ভারতের আবহাওয়াবিদরা বলছেন, আগামী এক সপ্তাহে দিল্লিতে পশ্চিমা ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা তারা দেখছেন না। ফলে অবস্থার দ্রুত উন্নতিরও আশা কম।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য