জার্মানির এক নার্স দুইটি হাসপাতালে অন্তত ১০৬ রোগীকে মাত্রাতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগ করে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, নিল হোগেল তার তত্ত্বাবধানে থাকা রোগীদের নিয়মিত ঝুঁকিপূর্ণ মাত্রায় হৃদরোগের ওষুধ প্রয়োগ করতেন।

হোগেল ( রোগীদের দ্রুত সুস্থ করে ) সহকর্মীদের মুগ্ধ করতে এ কাণ্ড করতেন বলেও জানিয়েছেন গোয়েন্দারা। ওষুধের অতিরিক্ত মাত্রার কারণে বেশিরভাগ রোগী মারা যেতেন।

বিবিসি জানায়, (দুই রোগীকে) হত্যার দায়ে এরইমধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন হোগেল।

এই তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী বছর তার বিরুদ্ধে নতুন আরও কিছু অভিযোগ দায়ে হতে পারে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৯ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে হোগেল ওল্ডেনবুর্গ ক্লিনিকে ৩৮ জনকে এবং ডেলমেনহোর্স্টে ৬২ জনের বেশি রোগীকে হত্যা করেছেন।

যদিও গোয়েন্দাদের ধারণা, হোগেল আরও অনেক বেশি মানুষকে হত্যা করেছেন।

এসব হত্যার অভিযোগে যদি হোগল দোষী সাব্যস্ত হয় তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সে জার্মানির সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সিরিয়াল কিলারদের একজনে পরিণত হবে।

২০১৫ সালে হত্যা মামলার শুনানি চলার সময় হোগেল স্বীকার করেন, তিনি ৩০ জনের বেশি রোগীকে হত্যা করেছেন।

এরপর তার বিরুদ্ধে আরও বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়। ওই মামলায় দুই জনকে হত্যা, দুইজনকে হত্যা চেষ্টা এবং রোগীদের ক্ষতি করার অভিযোগে হোগেল দোষী সাব্যস্ত হন।

বিবিসি জানায়, তদন্ত কর্মকর্তারা হোগেলের তত্ত্বাবধানে থাকা অবস্থায় মারা যাওয়া ১৩০ জন রোগী দেহাবশেষ পরীক্ষা করেন। সে অন্যান্য যেসব হাসপাতালে কর্মরত ছিল সেখানকার নথিপত্রও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

জার্মানির একটি ম্যাগাজিনের খবরে বলা হয়, হোগেল ওল্ডেনবুর্গ ক্লিনিকে কর্মরত থাকার সময় সেখানে রোগীদের মৃত্যুর হার বেড়ে গিয়েছিল।

তারপরও ভালো রেফারেন্স নিয়ে হোগেল কাছের ডেলমেনহোর্স্ট হাসপাতালে চাকরি পেয়ে যান এবং যথারীতি সেখানেও সে যে শিফ্টে কাজ করতো সেই সময় রোগীদের মারা যাওয়ার হার বেড়ে যায়।

‘দের স্পিজেল’র খবর অনুযায়ী, একদিন হোগেল কক্ষে থাকা অবস্থায় কিছুক্ষণ আগেও স্থিতিশীল এক রোগীর হঠাৎ করেই ‘হার্টবিট’ অনিয়মিত হতে শুরু করলে অন্য একজন নার্সের সন্দেহ হয় এবং তিনি ময়লার ঝুড়িতে ওষুধের খালি বোতল খুঁজে পান; হোগেল ধরা পড়েন।

২০১৫ সালে বিচার চলার সময় নিজের কাণ্ডের জন্য ‘আন্তরিকভাবে ক্ষমা’ চান হোগেল।

তিনি বলেন, এক একজন রোগী মারা যাওয়ার পর প্রত্যেকবারই তিনি এ কাজ আর করবেন না বলে প্রতিজ্ঞা করেন এবং কিছুদিন পর ওই প্রতিজ্ঞা ভুলে আবারও একই কাজ করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য